ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় শঙ্কায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীরা

ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় শঙ্কায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীরা

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দ্রুত প্রত্যাবাসন জন্য ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। যার আওতায় অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় পাওয়ার আবেদন ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই চুক্তির ফলে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে যাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার উদ্যোগের অংশ। চুক্তিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উভয় দেশই তাদের নিজ নিজ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে এবং অবৈধ অভিবাসনের সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে সক্ষম হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে লন্ডনে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া প্রায় সাড়ে ১০ হাজার বাংলাদেশিকে দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) যুক্তরাজ্যের অভিবাসন, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় হোম অফিস এ তথ্য জানায়।

এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য তাদের অভিবাসন নীতিমালা আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে এবং বাংলাদেশও তাদের নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে শুধু স্থায়ীভাবে থাকার জন্য ও তারা ১২ মাসের মধ্যেই আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ না করেই স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে আবেদন করেছেন এবং ওয়ার্কার ও ভিজিটর ভিসায় গিয়ে যারা আশ্রয় চেয়েছেন, তাদের আবেদন প্রত্যাখান করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের প্রাথমিক আশ্রয় আবেদনের ৫ শতাংশ সফল হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধমন্ত্রী টমলিনসন বলেন, আশ্রয়পার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আমাদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমাদের মূল্যবান অংশীদার।

এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া ব্যক্তিদের নয়, বরং অপরাধী ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া ব্যক্তিদেরও দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে, যা উভয় দেশের জন্য উপকারী হবে। চুক্তিটি উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

গত মাসে প্রকাশ্যে আসা ব্রিটিশ হোম অফিসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড ২১ হাজার ৫২৫ জন ভিসাধারী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ বেশি। এর মানে, যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে প্রবেশ করা প্রতি ১৪০ জনের মধ্যে একজন দেশটিতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন।

ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে পাকিস্তানিরা। পাকিস্তানের প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ জন নাগরিক দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

অন্যদিকে, ভারতের ৭ হাজার ৪০০ জন, নাইজেরিয়ার ৬ হাজার ৬০০ জন এবং আফগানিস্তানের ৬ হাজার জন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। গত বছর যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই এমন ২৬ হাজার বিদেশি নাগরিককে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাজ্য তাদের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা কমানোর প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে।

-191

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.