নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ফ্যাসিস্ট হাসিনা শাষনামলের ১৬ বছর ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশের হুজুগ তুললেও প্রকৃত পক্ষে সরকারি সেবা প্রদান চলছিল সেই মান্দাতার আমলের নিয়মেই। তবে এবার হয়ত পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে সরকারি সেবা পেতে ভোগান্তির সেই দিনগুলির
এক ঠিকানায় সব নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের উদ্যোগে আসছে নতুন সেবা আউটলেট ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’, যার সংক্ষেপিত রূপ ‘নাগরিক সেবা’।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানানো হয়েছে, ১ মে থেকে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহীরা [www.nagoriksheba.gov.bd] ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ কার্যক্রমে বর্তমান ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, শুরুতে প্রায় ১০০টি সরকারি সেবা দেওয়া হবে, যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে দুটি করে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা নির্বাচন করে নাগরিক সেবা কেন্দ্রে (কিয়স্ক) প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে আর সরকারি অফিসে যেতে হবে না। স্থানীয় সেবাদাতা উদ্যোক্তারাই অনলাইনে আবেদন সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠাবেন। “ন্যাশনাল সার্ভিস বাস” নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ডেটা শেয়ারিং ও সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
উদ্যোক্তারা পাবেন সরকারি ব্র্যান্ডিং, ইউনিফর্ম, আইডি কার্ড ও সনদ। কম্পিউটার, ফার্নিচার ও প্রাথমিক খরচের জন্য সহনীয় সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অফিস, পোস্ট অফিস বা বিটিসিএল অফিসে কো-ওয়ার্কিং স্পেস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ডেটা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় গঠিত হবে “ডেটা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইন্টার-অপারেবিলিটি অথরিটি”। একটি সিঙ্গেল পোর্টাল ও সুপার অ্যাপের মাধ্যমে সব সেবা, বিলিং ও পেমেন্টের সুবিধা দেওয়া হবে। তৈয়্যব বলেন, “এই উদ্যোগ গ্রাম থেকে শহর—সব স্তরের নাগরিকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে, বিশেষ করে যাদের ডিজিটাল ডিভাইসের অভাব আছে।”
সরকারের লক্ষ্য, প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানো এবং দুর্নীতি কমানো। এই উদ্যোগ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে গতি যোগ করবে বলেও আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
