সৌদি-ইজরাইল সখ্যতার নতুন বহিঃপ্রকাশ পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন

সৌদি-ইজরাইল সখ্যতার নতুন বহিঃপ্রকাশ পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ সৌদি আরবের নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রকাশিত স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত মানচিত্রে ফিলিস্তিনের নাম দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যবইগুলোতে অধিকাংশ মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সৌদি আরবের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ, যা ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন অঞ্চলের প্রতি সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।

ইন্সটিটিউট ফর মনিটরিং পিস অ্যান্ড কালচারাল টলারেন্স ইন স্কুল এডুকেশন (IMPACT-se) দ্বারা পরিচালিত এক সমীক্ষায় জানা গেছে যে এই পাঠ্যবইগুলোতে এখন প্রায়ই সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী দেশগুলো ছাড়া অন্যান্য দেশগুলোর নাম মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যার মধ্যে ফিলিস্তিনও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, মানচিত্র থেকে সব দেশের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। বইগুলোতে জেরুজালেমের বদলে শুধু পূর্ব-জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমকে ‘অধিকৃত’ বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য, ইসরায়েলের প্রতি ‘বিরূপ’ মনোভাব প্রকাশ পায় এমন বেশ কিছু শব্দ পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, ‘শত্রু’, ‘জায়োনিস্ট শত্রু’ বা যেসব বাক্য বা শব্দাংশের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ‘ইসরায়েলের উদ্দেশ্য’ সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দেওয়া হতো, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জায়োনিজমকে ‘বর্ণবাদী ইউরোপীয় আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও এ ধরনের বাক্য নতুন বইয়ে নেই। বস্তুত, ইসরায়েলের সমালোচনা করা হয়েছে এমন সব অনুচ্ছেদ বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তনটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডস অনুসরণ করে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরায়েল সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেমন “জায়নিস্ট শত্রু” শব্দগুচ্ছ পরিবর্তন করে “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী” করা হয়েছে।

সমালোচকরা মনে করেন যে এই পরিবর্তনটি ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক এবং চলমান সংগ্রামকে অবমূল্যায়ন করে, যা সৌদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিলিস্তিনি বিষয়ের গুরুত্বকে হ্রাস করতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকরা মনে করেন এটি আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ।

এই পরিবর্তনটি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ উদ্যোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা রাজতন্ত্রকে আধুনিকীকরণ এবং পশ্চিমা দেশ ও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্য রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-191

 

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.