নবকণ্ঠ ডেস্কঃ দিন দিন বেড়েই চলছে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের পরিমাণ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের পরিমাণের বৃদ্ধির পিছনে এই নানা কারণগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথমত, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থার কারণে অর্থ পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক পরিবেশের অভাবে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় বিদেশে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করতে বাধা পায়। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অব্যবস্থার পরিস্থিতি কিছু ব্যবসায়ীদের পরিচ্ছন্নতা করতে অনুপ্রেরণা দেয় যেটা অর্থ পাচারের পরিমাণের বৃদ্ধির উপাদান হিসেবে কাজ করে।
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো বলেছেন যে, তাদের কার্যক্রমের সমন্বয়ের অভাবে অর্থ পাচার বেড়েছে। এটা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে যে কার্যক্রমের সঠিক পরিচালনা না থাকলে অর্থ পাচার কোনও নতুন আদানের রাস্তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে।
কীভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাব মিলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে। তারা জানান, পণ্য রপ্তানিরক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং (কম মূল্য দেখানো) ও আমদানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিংয়ের (বেশি মূল্য দেখানো) মাধ্যমে দেশের টাকা পাচার করা হচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন ও তাদের অনুসারী ব্যবসায়ীরা অর্থ পাচারে জড়িত থাকেন বলে মনে করছেন তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ের অভাবে অর্থ পাচার বাড়ছে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। এদিকে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে শিল্পোদ্যোক্তারা বেশ চিন্তিত।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, অনলাইন জুয়া, বেটিং, গেমিং, হুন্ডির কারণে মুদ্রাপাচার বাড়ছে
এই সমস্যা সমাধানের জন্য, বাংলাদেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা একসাথে কাজ করে এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করে যেন অর্থ পাচারের অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ নিষিদ্ধ হয় এবং নিয়মিত পরিদর্শন এবং তথ্য প্রদান করা হয় যাতে অস্বীকৃত প্রক্রিয়াগুলো সহজেই চিহ্নিত ও ব্যবস্থাপনা করা যায়।
অস্বাভাবিক আমদানি পণ্যের ওপর গভীর নজরদারির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কাজের সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

