Share this post:
অনেক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির দ্বারা প্রয়োজনীয় এই পরীক্ষাগুলি নির্দিষ্ট সংস্থা এবং দালালদের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের সন্ধানকারী ব্যক্তিদের হতাশাকে শোষণ করে। তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, যা এই সংস্থাগুলিকে মেডিকেল রিপোর্টগুলি পরিচালনা করতে এবং প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার অনুমতি দেয়।
এই শোষণের শিকার ব্যক্তিরা প্রায়শই নিজেদেরকে ভয়ানক আর্থিক পরিস্থিতিতে খুঁজে পায়, এই অসাধু এজেন্টদের দাবি করা ফি বহন করার জন্য তাদের সম্পদ বিক্রি করে। অভিযোগ এবং সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সত্ত্বেও, সিস্টেমের অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য খুব কমই করা হয়েছে৷
প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও এই শোষণের মানবিক মূল্যকে উপেক্ষা করা যায় না। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ অনুশীলন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই শোষণের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং সিন্ডিকেটের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সিস্টেমটি সংস্কারের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা পরিষেবার অভাব, অপব্যবহার ও দুর্নীতির চক্র অব্যাহত থাকার কারণে প্রবাসীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, শ্রমিকদের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে মেডিকেল চেকআপ বাধ্যতামূলক। দেশে সরকারি-বেসরকারি ও বিশ্বমানের বেশ কিছু মেডিকেল সেন্টার থাকলেও হাতে গোনা কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করানো হয় বিদেশ গমনেচ্ছুদের মেডিকেল টেস্ট। এসব মেডিকেল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিন্ডিকেটের হাতে থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই। তারাও এই বিষয়ে সবকিছু জানেন। তারপরও কোন প্রতিকার নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর সমন্বয়কারী সংস্থা হলো গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল অ্যাপ্রুভড মেডিকেল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন (গামকা)।
সংস্থাটির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণা, অবস্থার বা সেবার মান তেমন উন্নতি হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের খুব দহরম-মহরম।
মেডিকেল ফিটনেস কার্ড সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয় বিদেশগামীদের। সাধারণ মেডিকেল পরীক্ষায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হলেও গামকার অধীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয় ১০থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দালালদের বকশিশ তো রয়েছেই।
বিদেশগামী প্রবাসীরা যারা বিদেশ এসেছেন তারা জানান দেশের মেডিকেল পরিক্ষার নামে হয়রানি যত দ্রুত সম্ভব লাগাম টেনে ধরে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণ করলে কিছুটা হলে বিদেশগামীরা এসব সিন্ডিকেট থেকে পরিত্রাণ পাবে।edited 22:36

