নবকণ্ঠ ডেস্কঃ অবৈধ নিয়োগের কারণে বাংলাদেশ থেকে অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করেছে মালদ্বীপ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যার প্রধান কারণ হলো দেশটিতে অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি। মালদ্বীপে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি অবৈধ অবস্থায় আছেন। এই অবস্থা মালদ্বীপ সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
দ্বীপদেশটিতে অবৈধ অভিবাসী সমস্যা দীর্ঘদিনের। সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘কুরাঙ্গি’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে ৭০০ জনেরও বেশি অভিবাসীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মালদ্বীপ। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর প্রশাসন গত বছরের ডিসেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।
বাংলাদেশি শ্রমিকরা মালদ্বীপে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বেতন না পাওয়া, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, এবং খারাপ জীবনযাপনের মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই শ্রমিকরা চাকরির জন্য দালালদের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেন, কিন্তু মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর প্রতারণার শিকার হন এবং কঠোর পরিশ্রমে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।
অবৈধ শ্রমিকদের অবস্থান সঠিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মালদ্বীপ এবং বাংলাদেশ সরকার এই সমস্যার সমাধান করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছে। মালদ্বীপ সরকার নতুন শ্রমিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
