নবকণ্ঠ ডেস্কঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। শনিবার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের আয়োজনে এ ইফতারে তিনি যোগ দিলেও কোনো বক্তব্য দেননি। তবে জামায়াতের প্রতি তার এই আচরণ উদ্ভূত করেছে প্রশ্ন, কেননা গত বছরও তিনি জামায়াতের সঙ্গে বেহেশতেও যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের সখিপুরে হতেয়া হাজী হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। পাকিস্তানিদের সহযোগী হয়ে তারা মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। আল্লাহ যদি আমাকে বেহেশতে নেন, সেখানেও জামায়াতের সঙ্গে থাকব না। এছাড়া ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় এক সমাবেশে তিনি জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোটভুক্তির সমালোচনা করে বলেছিলেন, “জামায়াত ক্ষমা চাইলে, ভুল স্বীকার করলেই কেবল রাজনীতিতে ফেরার অধিকার পাবে।”
এমন পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের ইফতারে তার উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিভক্তি। একাংশ এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অন্যরা মনে করছেন, এটি তার পূর্বের আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। স্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী নেতার পক্ষে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ সমর্থনযোগ্য নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা হয়তো প্রেক্ষাপটবিশেষে কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি স্পষ্ট, জামায়াতের প্রতি তার এই আচরণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে জনমনে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। আগামী দিনে কাদের সিদ্দিকীর রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের ভেতর এর প্রভাব নিয়েও চলছে জল্পনা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
