হরমুজে ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি; চাপে কেন বাংলাদেশ?

হরমুজে ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি; চাপে কেন বাংলাদেশ?

নবকণ্ঠ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেসব রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাদের সংশ্লিষ্ট জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সামঞ্জস্য রেখে চলা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও পরোক্ষভাবে এ ঝুঁকির আওতায় পড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জ্বালানি আমদানি, পণ্য পরিবহন ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আকরামিনিয়া রোববার এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ না তুললেও, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা কাঠামো অনুসরণকারী দেশ হিসেবে ঢাকাকে ইরান ইতিবাচকভাবে দেখছে না। বিশেষ করে ইরানবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থানে বাংলাদেশের নীরবতা বা পশ্চিমা অবস্থানের কাছাকাছি অবস্থান তেহরানের অসন্তোষ বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্টের অনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোনোদিন প্রতিবাদ জানায় নি, বরং তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে এসেছে। এমন কি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনবাদী অবৈধ রাষ্ট্র সম্পুর্ণ সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিয়ে ইরানে ক্রমাগত নৃশংস হামলা চালিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যা করার পর বিশ্বব্যাপি নিন্দার ঝড় ওঠে – কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তখন কোনো নিন্দা না জানিয়ে উলটো যে বক্তব্য দেয় তা ইরানের বিরুদ্ধে চলে যায়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এসব রাষ্ট্র ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই তেহরান একাধিকবার সতর্কবার্তা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান জানায়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা দেবে, তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য এ নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি বিল বাড়া, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি দেশ যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য নৌ নিরাপত্তা মিশনের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *