নবকণ্ঠ ডেস্কঃ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাপক পরিমাণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা গেলে দেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরতে হবে। এজন্য আমাদের দরজায় দরজায় গিয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে হবে।”
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, এফডিআই বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো, লজিস্টিক সাপোর্ট ও বন্দর সুবিধার উন্নয়ন জরুরি। তিনি বলেন, “চাকরি হতে হবে মানসম্মত ও টেকসই, কোনো অকার্যকর চাকরি নয়। কার্যকর বন্দর, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন।” এ লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও সাধারণ নাগরিকদেরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, প্রফেসর ইউনূসের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশকে একটি “ম্যানুফ্যাকচারিং হাব” হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রসার ঘটবে। এতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন বাড়বে, যা স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়বে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছি। গত আট মাসে অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। এখন আমাদের লক্ষ্য এই অর্জনকে টেকসই করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা।” তিনি দেশের ইতিবাচক গল্প বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে মিডিয়া, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।
সবশেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সন্ধিক্ষণে রয়েছে। বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আগামী দিনে দেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।” এ লক্ষ্যে সরকারের নীতিসহায়তা, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
