
আসন্ন গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ভ্যাক্সিন গ্রহনে ইচ্ছুকদের তা সরবরাহ করার সম্ভাবনা দেখছেন বলে জানিয়েছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
গতকাল মঙ্গলবার টিএফ-ওয়ান টেলিভিশনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এ ভাইরাস খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে, তাই ঔষধপ্রস্ততকারক কোম্পানীগুলোর এখন ব্যপক উৎপাদনে যাওয়া দরকার। ফ্রান্সজুড়ে চারটি স্থাপনায় এ ভ্যাক্সিন তৈরীর প্রস্তুতি চলছে যা এই গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও ভ্যাক্সিন পৌঁছানোর দৃঢ় আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও পর্যাপ্ত পরিমান ভ্যাক্সিন পৌঁছানোর আশা করছি, কেননা তারা ভ্যাক্সিন না পেলে অমানবিকভাবে জনগণের মাঝে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অংশের মাঝে ভাইরাসটি বংশবৃদ্ধি করতে থাকবে। এতে নতুন নতুন স্ট্রেইন তৈরী হবে এবং এক পর্যায়ে তা আমাদের দিকেই ফিরে আসবে।
ভ্যাক্সিনের বিষয়ে এখন আর আবিষ্কার সংক্রান্ত উদ্বেগ নেই, বরং এখন বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে ব্যাপক প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি। তাই আবিষ্কারক কোম্পানীগুলোর উচিত সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে একযোগে কাজ করা যারা এই প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি বহুগুনে বাড়াতে সক্ষম। ফ্রান্সের ঔষধপ্রস্ততকারক কোম্পানী সানোফি আগামি কয়েকমাসের মধ্যে জার্মানীতে একটি স্থাপনাকে ভ্যাক্সিন প্রস্তুতের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কনভার্শনের কাজ করে যাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ।
তিনি আরো জানান, ইউরোপের ২৭ দেশ মিলে ২৪০ কোটি ভ্যাক্সিন তৈরী ও সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। কয়েকটি দেশ এ প্রক্রিয়াকে “ধীরগতির কাজকারবার” বলে অভিযোগ করেছে।
রাশিয়ার ভ্যাক্সিন সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ম্যাখোঁ জানান, সম্প্রতি রাশিয়ায় পাঠানো টিমের সাথে গবেষনাগারের তথ্য আদানপ্রদান বেশ ইতিবাচক হয়েছে এবং সেখানে করা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নীরিক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। তবে ভ্যাক্সিনের কোনো একটি নমুনা এপ্রুভ করা হবে কি হবে না তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলে স্পষ্ট করেন ম্যাখোঁ।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
