নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে দলের এক নেত্রীকে “কুপ্রস্তাব দেওয়ার” অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে দলীয় কর্তৃপক্ষ তুষারকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার দলের যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে “নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ” উল্লেখ করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়, ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সারোয়ার তুষার মঙ্গলবার ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত “সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল” ও “স্মিয়ার ক্যাম্পেইন” বলে দাবি করেন। তুষার জানান, তার তিন মাস আগের ব্যক্তিগত কথোপকথন বিকৃত করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন যে, দলের নারী সহকর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে তার সাথে জড়িয়ে “জঘন্য কুৎসা” প্রচার করা হচ্ছে, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানান। তুষার স্বীকার করেন যে তিনি ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন এবং সংশোধনের জন্য প্রস্তুত আছেন। পাশাপাশি তিনি দলীয় তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-আহবায়ক সারোয়ার তুষারের ফাঁস হওয়া অডিও’র নারী কণ্ঠ নিজের নন বলে দাবি করেছেন দলটির আরেক যুগ্ম-আহবায়ক তাসনুভা জাবীন। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এমন দাবি করেন।
তাসনুভা জাবীন লিখেছেন, ‘শুধু এটুকু বলি, যার অডিও আমার নামে বলে ফটোকার্ড, ভিডিও কনটেন্ট বানিয়ে ভরায় ফেলছেন, আমি বা আমরা খুব সহজে তার নাম প্রকাশ করে আমার বিরুদ্ধে হওয়া এই জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তার নাম পাল্টা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছি।’
এই নেত্রী আরও লিখেছেন, “রাজনীতিতে আসার পর দ্বিতীয় বারের মতো খুব পরিকল্পনা মাফিক এই ভয়াবহ সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে আমাকে ঘিরে। আমি শুধু বুঝি, আমার কথা বা লেখা গুরুত্বপূর্ণ না হলে এত মানুষ আমাকে নিচে নামানোর এত আপ্রাণ চেষ্টা করতো না। এসবের উত্তর ‘সময়’ অবশ্যই দিবে। আল্লাহ ভরসা।”
এর আগে এনসিপির যুগ্ম-আহŸায়ক সারোয়ার তুষারের একটি ফোনালাপ ফাঁস করে প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। ফোনালাপে এনসিপির এক নারী নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতে শোনা যায় সারোয়ার তুষারকে।
ঘটনার পটভূমিতে তুষার দাবি করেন, গত আগস্টে বিএনপির সমালোচনা করার পর থেকে তার বিরুদ্ধে “অর্গানাইজড ভার্চুয়াল মব” চলছে। তার মতে, এর আগেও তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। বর্তমানে এই অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এনসিপি নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলেছেন, নৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলীয় তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে তুষারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

