নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়ে অভিবাসন নিয়ে বেশি আতঙ্কিত ইউরোপ, বিশেষ করে জার্মানি। তাই বর্তমানে জার্মানরা অভিবাসী সংখ্যা কমাতেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। সম্প্রতি ডেনমার্কভিত্তিক সংস্থা ‘অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্রেসিস ফাউন্ডেশন’র এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এই গবেষণাটির ফলাফল অন্যান্য গবেষণা সংস্থাগুলির তুলনায় যে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটি সত্যিই চমৎকার। জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে যা এই সমস্যার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়।
সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চারজন ইউরোপীয়র মধ্যে একজন মনে করেন, সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকারের তালিকায় ‘অভিবাসন কমানোর’ বিষয়টি থাকা উচিত। ২০২২ সালের আগে এমন মনে করা ইউরোপীয়র সংখ্যা ছিল প্রতি পাঁচজনে একজন।
বিশ্বের অনেক দেশে মানুষের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে, এবং এটি প্রতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ অনুযায়ী এই উদ্বেগের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।গবেষণার ফলাফল বলছে, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো বেশিরভাগ ইউরোপীয়র কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেয়ে অভিবাসন কমানো বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে। আর এই তালিকায় সবার উপরে আছে জার্মানি। এই প্রক্রিয়াটি অন্যান্য দেশগুলিতেও নতুন ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে।
২০২২ সালে প্রতি চারজন জার্মান নাগরিকের একজন অর্থাৎ ২৫ শতাংশ জার্মান বলেছিলেন, অভিবাসন কমানো তাদের মূল অগ্রাধিকার। ২০২৪ সালে এই হার ৪৪ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, আর ২০২২ সালে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ জার্মান জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এখন সেই হার ২৫ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, তাদের সরকার অল্প কিছু মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। গণতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক উভয় দেশের ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য। গত চার বছরে এমন উপলব্ধি সবচেয়ে বেশি ছিল লাতিন আমেরিকায়। এশিয়ায় ছিল সবচেয়ে কম। আর ২০২০ সাল থেকে ইউরোপে এই ধারণা ক্রমেই বেড়েছে, বিশেষ করে জার্মানিতে৷
জানা গেছে, গবেষণাটি বিশ্বের ৫৩টি দেশে চালানো হয়। সেগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক দেশ ছাড়াও স্বৈরতান্ত্রিক দেশও আছে। এসব দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ বাস করেন। গবেষণার মাধ্যমে গণতন্ত্র, সরকারের অগ্রাধিকার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হয়।
এই গবেষণার ফলাফল দেখা যাচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উঠে আসছে, এবং এটি প্রধানতঃ যুদ্ধ, সহিংসতা, দারিদ্র্য, ও খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সমস্যা হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ও সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতির জন্য একটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই, সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল উদ্বেগজনক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
