নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান,ইতালিতে কর্মরত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর কবিরের হাত অনেক লম্বা। এটাই এখন মিলান প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে বড় বিস্ময়। আওয়ামী লীগ নেতা শ্বশুড়ের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের আমলেই বাংলাদেশ থেকে মিলানে দূতাবাসে যোগ দেন তিনি। ৫ আগষ্টের পর তিনিই আবার তার ক্ষমতার নতুন নমুনা দেখিয়েছেন । তিনি তার সাথে মিলানে থাকা স্ত্রী এবং তিন সন্তানের সরকারি পাসপোর্ট বাতিল করে সাধারণ পাসপোর্ট করার অনুমতি পেয়েছেন।
সহকারী সিনিয়র সচিব শাকেরা আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেখা যায় যে মোঃজাহাঙ্গীর কবিরের স্ত্রী ও তিন সন্তানের সরকারি পাসপোর্ট বাতিল করে সাধারণ পাসপোর্ট করার অনুমতি দেয়া হয়েছে, যা একজন কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী সরকারী চাকুরিজীবি জন্য সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ।
সে তার স্ত্রী সন্তানদের ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অফিসিয়াল পাসপোর্ট পরিবর্তন করে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেছে যা অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে।

পাসপোর্ট চারটি হলো জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এমএসটি শামীমা আক্তার পাসপোর্ট নম্বর ই ০০১৪১৫৫৩, তিন ছেলে এমডি আজমাইন সাদিক – পাসপোর্ট নম্বর ই০০০০৬৬৯১, এমডি আহনাফ সাহিক-পাসপোর্ট নম্বর ই ০০১৪১৫৫৪ এবং এমডি আহনাফ কবির তারিক- পাসপোর্ট নম্বর ই০০০০৬৬৯০।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে , এই জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের আমলে লবিং করে মিলানে বদলি নিয়ে আসে। সে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় শ্রেনী কর্মকর্তা কল্যনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলো ২০২২ সালে। ঐ সময় নিয়মিতভাবেই সে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচি নিয়মিত পালন করতো।
মিলান কনস্যুলেট তাজুল ইসলাম ও তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর উপর ভেনিস প্রবাসী বাংলাদেশীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আছে। জানা গেছে, কনসুলেট সেবা দেয়ার নাম করে ২ হাজার প্রবাসীর কাছ থেকে ১০ ইউরো করে ২০ হাজার ইউরো বিনা রিসিটে কালেকশন করে কোন কনসুলেট সেবা না দিয়ে টাকা আত্নসাতের অভিযোগ আছে।
জানা যায় জাহাঙ্গীর আগে সবচেয়ে বড় আওয়ামী লীগ ছিলো , যার দাপটে মিলান দূতাবাসে টেকাই দায় ছিলো সে এখন ক্ষমতার পালা বদলে সে রাতারাতি জামাত-বিএনপির সাথে মিশে গেছে। এমনকি মিলান কনস্যুলেট অফিসে চাকরিরত অবস্থায় সে স্থানীয় জামাত-বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
জানা মতে প্রবাসে দূতাবাসে যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয় সেখানে সর্বোচ্চ দুই সন্তান যাদের আছে তারাই নিয়োগ পেয়ে থাকেন।জাহাঙ্গীর কোন ক্ষমতা বলে তিন সন্তান নিয়ে মিলানে নিয়োগে পেলেন সে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।এই রুপ বদলকারী জাহাঙ্গীর ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ভিয়েতনামে আট বছর চাকরি করেছেন।কোন ক্ষমতা বলে তিনি আট বছর একই দূতাবাসে কাজ করেছেন,জাহাঙ্গীরের খুঁটির জোর কোথায় ?
জানা গেছে, ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর এই জাহাঙ্গীর ভবিষ্যতে যাতে দেশে ফিরে যেতে না হয় সেই কারনেই স্ত্রী এবং সন্তানদের অফিসিয়াল পাসপোর্ট বাতিল করে সাধারন পাসপোর্টের অনুমোদন করিয়েছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
