নবকণ্ঠ ডেস্কঃ নীল সমুদ্রে ঘেরা মনোমুগ্ধকর ইটালির ক্যাপ্রি দ্বীপ রোমান সাম্রাজ্য শুরুর বছর থেকেই সারা বিশ্ব পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। ক্যাপ্রিতে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে সমুদ্র সৈকতে থাকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
পর্যটন মৌসুমে পাথুরে দ্বীপটিতে দিনে ১৬ হাজারের বেশি পর্যটক প্রবেশ করে। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দার সংখ্যা ১২,৯০০ জন। পর্যটকদের বেশিরভাগই দিনের বেলা ভ্রমণ করে থাকে তবে অতিরিক্ত পর্যটকদের রাতে দ্বীপে অবস্থান নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।
কোন অঞ্চলে পর্যটক এলে সমৃদ্ধ হয় ঐ অঞ্চলের অর্থনীতি কিন্তু তারপরো ক্যাপ্রি দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা আছেন বিপত্তিতে। কারণ এই পর্যটকদের সংখ্যা এত বেশি যে তার চাপ সামলাতে নাকাল হতে হয তাদের সবাইকে। তাদের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি লোক আসছে তাই এতো পর্যটকদের জায়গা দেয়ার সামর্থ্য স্থানীয় পরিবারগুলোর নেই।’
ক্যাপ্রি ইউরোপিয়ান হলিডে হটস্পটগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি। স্থানীয়রা তাদের জীবিকার জন্য দর্শনার্থীদের ওপর নির্ভর করলেও ব্যাপক পর্যটনের কারণে স্থানীয়দের এই নিখুঁত সৌন্দর্যের দ্বীপের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। কিছু ইটালিয়ান শহর ও দ্বীপ ইতিমধ্যে পর্যটকদের ফিরিয়ে দিতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি ভেনিস বিশ্বের প্রথম শহর হিসেবে দর্শকদের জন্য শহরে ঢুকতে প্রবেশ ফি চালু করেছে। ফ্লোরেন্স শহরের কেন্দ্রে ছুটির দিন নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইটালিয়ান রিভেরার সিঙ্ক টেরে পার্কে ভিড় সামলাতে প্রবেশের জন্য ১৫ ইউরো চার্জ করা শুরু করেছে।
ক্যাপ্রির মেয়র মারিনো লেম্বো জানিয়েছেন, ‘আমরা শীতকালে বেশি পর্যটক আসার জন্য উৎসাহ দিচ্ছি।’
ইনস্টাগ্রামে চার মিলিয়নেরও বেশি ট্যাগ করা ছবি রয়েছে এই দ্বীপের। তাই এমন জনপ্রিয় একটি দ্বীপের পর্যটকদের ভ্রমণ থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এই ফি তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। যা পর্যটকদের ঢল দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন ফি বৃদ্ধি আবাসন সঙ্কট কমাতে সাহায্য করবে না। এই সমস্যার সমাধানে টেকসই আবাসনের দিকে জোর দেওয়া উচিত।
অবকাশকালীন ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি ক্যাপ্রিতে ২০১৬ সালে প্রায় ১১০টির বিপরীতে পাঁচ শ এর বেশি সম্পত্তির তালিকা করেছে। স্থানীয় পরিবারগুলো গ্রীষ্মের মাসগুলোতে এ ধরণের পোর্টালগুলোতে তাদের সম্পত্তি ভাড়া দেয়।
মেয়র আরো বলেন, ‘আমি অন্যদের সঙ্গে একমত নই যারা বলে ক্যাপ্রি ১০০ বছর আগে আরও সুন্দর ছিল। কেননা তখন ক্যাপ্রিতে দুর্দশা ও দারিদ্র্য ছিল। এখন সম্পদ আছে এবং এর জন্য পর্যটনকে ধন্যবাদ।’মেয়র সমস্যাগুলো স্বীকার করেন তবে তিনি পর্যটন খাত দ্বীপকে ধ্বংস করছে এমনটা বলতে নারাজ। যেখানে তার পূর্বপুরুষরা বহু শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছেন।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
