নবকণ্ঠ ডেস্কঃ রোববার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। থাইল্যান্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়। রাজধানীর ভাটারা থানায় জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানকালীন এক মামলায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইস্যু করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এই কার্যক্রম বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নুসরাত ফারিয়া ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্র জগতে সক্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং ও টেলিভিশন সঞ্চালনার সঙ্গেও যুক্ত তিনি। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বায়োপিক ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রে হাসিনার চরিত্রে অভিনয়। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি “ফ্যাসিস্ট সরকারের অপকর্ম ঢেকে মহিমান্বিত করার একটি প্রকল্প”।
গ্রেপ্তারকাণ্ডটি নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রতিবেদনে এই গ্রেপ্তারকে “প্রশ্নবিদ্ধ” ও “আবেগপ্রবণ” বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, বিবিসি বাংলা এর প্রতিবেদনে একে “হয়রানি” হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। কিছু গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে নুসরাতের প্রতি জনসাধারণের সহমর্মিতা তৈরির প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, নুসরাত ফারিয়া “ফ্যাসিবাদের প্রতীক” ও “রক্তপিপাসু হাসিনা” চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রচারণায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তার গ্রেপ্তারকে ঘিরে মিডিয়া কভারেজকে তারা “জনমত গঠনের অপচেষ্টা” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। অপরপক্ষে, সরকারপন্থী মহলের বক্তব্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।
এ অবস্থায়, আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আদালতের দায়িত্ব। নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা গেলেই জনগণের আস্থা রক্ষা সম্ভব। তবে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে তারা পরামর্শ দেন, সংবেদনশীল ঘটনায় ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদনই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
বর্তমানে নুসরাত ফারিয়াকে আদালতে হাজির করে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এই মামলার পরিণতি ও সামাজিক প্রভাব এখনো অনিশ্চিত।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
