নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বর্তমানে গুরুতর বাসস্থান সংকটে ভুগছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাসস্থান পাওয়ার অপেক্ষারত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বার্লিনের ফ্রি ইউনিভার্সিটির ছাত্র মেরলিন এখনও থাকার জায়গা খুঁজছেন, যা তাদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।
জার্মানির কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী ঋণ ও সহায়তা স্কিমের (বিএএফও্যজি) আওতায় শিক্ষার্থীরা বাসস্থান বাবদ মাত্র ৩৬০ ইউরো পাচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। এর ফলে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা, আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে না পারার কারণে বাসস্থান সংকটে পড়ছেন।
জার্মানিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মতোই বাসস্থান সংকটে পড়েছেন। বাড়িভাড়া ও ছাত্রাবাসের অভাবের কারণে অনেকেই সময়মতো বাসা পাচ্ছেন না। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ২,৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন এবং তাদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে অনেকেই আর্থিক নিশ্চয়তার অভাবে বাসা ভাড়া করতে পারছেন না, ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনও কঠিন হয়ে পড়ছে।
জার্মানির ছাত্র সংগঠন ডিএসডাব্লিও জানায় যে, ৩২,০০০ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসের জন্য অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন এবং এরমধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা ছাড়াই টিকে থাকতে পারছেন না। কিছু শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার জন্য শহরের বাইরে গিয়ে দীর্ঘ যাতায়াতের পথ বেছে নিচ্ছেন। জার্মানির সরকার বাসস্থান সংকট মোকাবিলায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো ভর্তুকি ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বার্লিনের ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র জানায় যে, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে সিটের অপেক্ষায় আছেন এবং নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ ও পুরনোগুলোর সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন। একারণে কিছু শিক্ষার্থী শহরের বাইরে গিয়ে দীর্ঘ যাতায়াতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী এখনও অস্থায়ীভাবে বাসস্থানে বসবাস করছেন।
এ পরিস্থিতিতে জার্মানির শিক্ষার্থীদের বাসস্থান সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
