৭১ থেকে আজঃ নারী কি নিরাপদ?

[author image=”http://www.nobokontho.com/wp-content/uploads/2017/06/AB-Siddik-2.jpg” ]আবু বকর সিদ্দিক,  ক্ষুদে লেখক ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র শিক্ষার্থী।[/author]

আবু বকর সিদ্দিক:

বিশ্বের যেকোন জাতিকে ধ্বংস করার জন্য দুটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি হচ্ছে গণহত্যা আর দ্বিতয়টি হচ্ছে নারী ধর্ষন। নারী ধর্ষণ আজকাল স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে! কিন্তু এমন তো হবার কথা ছিল না।
আমাদের ৭১ এর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত দিয়ে কিনা আমাদের এই স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নারীরা কি আজ নিরাপদ!

যুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা নিয়ে অনেকে অনেক রকম জরিপ তুলে ধরেন। আমি সেই সব হিসেবে যাব না। আমি শুধু জানি আমাদের এই জন্মভূমিকে রক্ষা করার জন্য কয়েক লাখ মা বোন নিজের ইজ্জদ বিলিয়ে দিয়েছেন! সেই পাকিস্তানী নরপিশাচদের কাছে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কীয় কিছু বই পড়ার সুযোগ হয়েছে। বিভিন্ন বই পড়ে আমার নিজের মাঝে মধ্যে অভিভূত হয় এরা কি আদৌ মানুষ ছিল! নাকি মানুষররূপি হিংস্র জানোয়ার ছিল।

মাসকেরাণহাস তার “রেইপ অফ বাংলাদেশ” এ দেখেছি তুলে ধরেছেন কিভাবে হাজারো অবালা নারী নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন সেইসব কুলাঙ্গারদের কাছে। তবুও তাদের শেষ রক্ষা হয় নি। নারীদের শরীর ছিন্নভিন্ন করে অবশেষে এরা নানারকম অস্ত্র শরীরে ঢুকিয়ে জীবন নি:শেষ করেছে। সভ্যতা কি আর সভ্যতার সংজ্ঞা কি তা পাকিস্তানিরা হয়তো জানতো ভালো করে। এরা এত অসভ্য ছিল যা আমি নিজে কল্পনা করলে আতকে উঠি।

আমাদের এই প্রজন্ম কি জানে পাকিস্তানীরা কত বড় বর্বর জাতি ছিল! পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আমাদের দেশের নারীদের জোরপূর্বক ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করতো। মেয়েরা যেন আত্মহত্যা করতে না পারে এজন্য তাদের শাড়ি পড়তে দেওয়া হত না। গলায় চুল জড়িয়ে মরতে যেন না পারে সেইজন্য পাকিস্তানিরা নারীদের মাথার চুল সম্পূর্ণ কেটে ফেলতো। শুধু নারীদের মরার অধিকার থাকতো ওদের নির্যাতনের উপর নির্ভর করে। শুকুনের মত শরীরের মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে ওরা উল্লাস করতো।

“যুদ্ধ ও নারী” বইয়ের লেখক ডা:এম,এ হাসান এদেশের ৭১ এ অনেক নারী যুদ্ধের সময় কিরূপ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার অনেক বর্ণনা তুলে ধরেছেন। যা পড়লে এখনো গা শিউরে উঠে।

অপূর্ব শর্মা রচিত “বীরাঙ্গনা কথা” তার বইয়ে তিনি তুলে ধরেছেন অনেক বীরাঙ্গনার কথা। সেখানে অনেক নির্যাতিত মহিলার সাক্ষাৎকার তিনি তুলে ধরেছেন। কত নির্মম ছিল সেইসব অন্ধকার দিনগুলো। মহিলারা এখনো তাদের সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে উঠেন।

জাতি কি জানে একজন বীরাঙ্গনার কথা! যিনি পরিচিত ফৌরদৌসী প্রিয়ভাষানী বলে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাস্কর হিসেবে সমাজে সমাদৃত। তিনি মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করেছিলেন যুদ্ধের সময় নিজের আশেপাশের কর্মকর্তা সহ নানাজনের লালসার শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার মত কত জন আর মুখ খুলেছেন। বেশিরভাগ মিডিয়ার আড়ালেই রয়ে গেছেন। সমাজের ভয়ে, জীবন চলার পথ হয়তো রুদ্ধ হয়ে যাবে এই ভয়ে অনেক বীরাঙ্গনা মুখ খুলেন নাই। কিন্তু তারাও তো লড়ে গেছেন এই দেশের জন্য। জাতি কি দিতে পেরেছে তাদের প্রাপ্য সম্মান?

৭১ এ যখন পাকিস্তানিরা অনুধাবন করতে পারলো যে, তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তাদের জেনারেল তাদের সেই সব নরপিশাচ সিংস্র জানোয়ারদের বলে দিয়েছিল; কোন নারী যেন আমাদের হাত থেকে রক্ষা না পায়। তারা এদেশের রাস্তাঘাটে ঘরে বাইরে পশুর মত আমাদের দেশের মানুষদের নানারকম অকথ্য নির্যাতন করেছে। পাকিস্তানীরা অনেক সময় বলত আর কিছু না পারলেও বাংগালীদের ঘরে আমাদের অস্তিত্ব রেখে আসবো। এরা এতটা বর্বর ছিল এরা কোথাও কোন নারী বা মেয়ে শিশু পেলে ছাড়তো না। যেখানে জাতিসংঘ নিয়ম অনুযায়ী যেকোন দেশে যুদ্ধের সময় নারি ধর্ষণ এবং শিশু হত্যা নিষেধ।

কে মানে কার নিষেধ! এখনো বিশ্বের নানা প্রান্তে আমি দেখতে পাই আমার অসহায় কোন বোনের কান্না। আমি দেখতে পাই লিবিয়া,সিরিয়া আর তিউনিসিয়ায় মানুষের কান্না আর আহাজারি। আমি এমন ও দেখতে পাই কোথাকার কোন দেশ নিরাপত্তার কথা বলে, বিভিন্ন দেশের মানুষদের গিলে ফেলছে। খেয়ে ফেলছে দেশের সব সম্পদ। আর নারি নির্যাতন করে যাচ্ছে অহরহ। যা আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ বর্ণনা করা হয়তো সম্ভব নয়। এখনো আমি দেখি আইএস আর কিছু নামধারী জঙ্গী গোষ্ঠী নারীদের তুলে নিয়ে নানারকম নির্যাতন করে আবার গর্ভপাত ঘটায়। আমি সুস্থ মস্তিষ্ক এ এরকম মানুষ কল্পনাও করতে পারি না। মানুষ কতটা বিবেকহীন আর নির্লজ্জ হলে এইসব অমানুষিক কাজ করতে পারে। শুধু যে জঙ্গীরা এরকম করছে এমন কিছু নয়। বিশ্বের মোড়লরা বিভিন্ন দেশের ভিতর নিরাপত্তার কথা বলে ঢুকে সেই সব দেশে রাজত্ব কায়েম করছে। আর ব্যবহার করছে দেশের সব সম্পদ আর নারীদের যেমন চায় ঠিক তেমন করে ব্যবহার করছে। এতে করে লোপ পাচ্ছে আমাদের মানবতা। মানুষ হয়ে যাচ্ছে অমানুষ।

মায়ানমারে রৌহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলা

মানবতা কোন দিকে যাচ্ছে তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার। এইতো মাত্র কয়েকদিন আগের কথা; সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে মিয়ানমার সরকার হাজারো রোহিঙ্গা মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সেনাবাহিনী মানুষের ঘরের ভিতর ঢুকে নারীদের নানারকম নির্যাতন করেছে যা মুখে বলা প্রায় অসম্ভব। শিশুদের হত্যার চিত্র আপনারা হয়তো স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে নির্মম আর বীভৎস চিত্রগুলো দেখতে পেরেছেন। আর মানুষই এইসব মানুষ হত্যা করার পর তাদের লাশ নিয়ে মিছিল করা হয়েছে এই তো প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে। সভ্যতার এই যুগে এরকম ঘৃণিত চিত্র দেখতে সত্যি বেমানান মনে হয়।

ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যায় আরমেনিয়াতে যুদ্ধের সময় অসংখ্য নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যুদ্ধের সময় নারী নির্যাতন এখনো চলে আসছে বিশ্বের নানাপ্রান্তে। ইতিহাস ঘাটাঘাটি করলে নারী নির্যাতনের চিত্র প্রায়ই যুদ্ধে দেখা যায়।

যুদ্ধ ছাড়াও আজকাল অনেক নারী ঘরে বাইরে নির্যাতিত হচ্ছে অহরহ। মনে কি আছে ২০১২ সালে ভারতে দিল্লেতে বাসের মধ্যে নির্ভয়া নামক একজন মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা। যা সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। অবশেষে জীবনের কাছে হেরে গিয়েছিল সেই জীবন।

এরকম শত শত ঘটনা চেপে রাখা হয় আমাদের আগোচরে যা আমরা কখনোই জানতে পারি না। কিন্তু মেয়েরা তো সম্মানের সহিত বেচে থাকার অধিকার রয়েছে এই সমাজে।

নারী নির্যাতন নিয়ে কিছু চিত্র তুলে ধরলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। সভ্যতার চরম উচ্চ শিখরে থাকা মার্কিনীদের অবস্থান নারী নির্যাতনে বিশ্বে প্রথম। প্রতি ৩ জনে ১ জন নারী ধর্ষণ হয়। প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একজন ধর্ষিতা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ৬৮ শতাংশ ধর্ষকের রিপোর্ট তৈরী হয় না।

গ্রেট বিটেনে বছরে প্রায় ৮৫ হাজার মহিলা ধর্ষিতা হন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন ২৩০ জন নারী ধর্ষিত হন।

নারী নির্যাতনে ৫ম অবস্থানে থাকা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একজন নারী ধর্ষণ হয়। ৯০ ভাগ ধর্ষণের কোন মামলা বা রেকর্ড হয় না।

ইউরোপের সভ্য দেশ জার্মানীতে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার নারী।
সুইডেনে ৪ জনে ১ জন নারী ধর্ষিত হন। ফ্রান্সে বছরে ৭৫ হাজারের ও বেশি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। ১৯৮০ সালের আগে তা কোন অপরাধ বলে গণ্য হতো না।

কানাডার হাফিংটন পোষ্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা নির্যাতনের শিকার হন।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অবসার্ভ এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৫ জনের মধ্যে ১ জন নারী ১৫ বছর বয়স থেকে শারীরিক সহিংসতার শিকার হন যেখানে ৫ জনের মধ্যে ১ জন যৌন সহিংসতার শিকার।

আফ্রিকায় কমবয়সী ও শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। আফ্রিকার দেশ আইভরি কোষ্ট, চাঁদ সহ নানাদেশে এখনো নারীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

আমাদের বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের শিকার ২২% নারী। দেশে বিবাহিত নারীদের ৮০ শতাংশ নির্যাতনের শিকার। বিবিসি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৬ সালের মধ্যে ১০৫০ জন ধর্ষনের শিকার হয়েছেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০০ এরও বেশি শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। ব্র্যাক বলছে ২০১৬ সালের নারী নির্যাতনের মধ্যে শিশু নির্যাতনের হার ২০ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি ৬০.৬৩ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১২-১৭ বছর বয়সীরা। গড়ে প্রতিদিন ২ জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে।

যখন দেখি আমাদের দেশে নারী নির্যাতন আর শিশু নির্যাতন প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে তখন ভাবতেই গা শিউরে উঠে। মাত্র কয়েকদিন আগের কথা যখন দেখলাম গাজীপুরে মাত্র আট বছরের মেয়েটাও ধর্ষনের শিকার হতে হয়েছে তখন কল্পনাকেও হার মানায়। বাবা হজরত আলী মেয়ের এ রকম ঘটনা সহ্য করতে না পেরে ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা আর মেয়ে। এরকম ঘটনা দেখার পর ভাবি এই মাত্র আট বছরের মেয়েটার কি দোষ ছিল। কিন্তু সমাজ তাদের বিচার করে দিতে পার নি। মেয়ে আর বাবা ওপারে চলে গেলেন বিচারের আশায়। এভাবেই দিনের পর দিন বিচারহীনতা চলতে থাকলে স্বাভাবিক হয়ে যাবে ধর্ষণ আর নারী নির্যাতন। আবার যখন দেখি, জন্মদিনের পার্টিতে নিজেদের গার্লফ্রেন্ডদের নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় তখন ভাবতেই অবাক লাগে নারী তুমি কোথাও নিরাপদ না! সময়ান্তর তোমার বন্ধুর কাছও না। আবার কয়েকদিন আগে মনিষা নামক একজন নারী নিজ স্বামীর দ্বারা হত্যার শিকার! কল্পনা করতে পারেন! নারীরা নিজের স্বামীর কাছেও অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন।

নারী তোমার অপরাধ তুমি মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছো। তুমি পৃথিবীর সব অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ সমাজ তোমাকে মূল্যায়ন করে না। এ সমাজ তোমাকে এখনো মূল্যায়ন করে তুমি মেয়ে বলে!সমাজ এখনো তোমায় মূল্যায়ন করে নারী বলে!

আজকাল পত্রিকা বা স্যাটেলাইট খুললেই দেখতে পাই হত্যা, গুম, রাহাজানি, মারামারি, আর ধর্ষনের মত ঘটনা। কিন্তু আমাদের মন মেজাজ আর চিন্তাধারা এমন এক পর্যায়ে এসে পড়েছে মনে হচ্ছে এটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু এই সব বিপদজনক ঘটনাও আজকাল আমাদের সমাজ দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কারো মনে নেই কোন ক্ষোভ বা প্রতিবাদ। কিছু কিছু সংগঠন বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে আমি একে সাধুবাদ জানাই। কোন ধর্ষক যেন পার পেয়ে না যায়। সবার বিচার হউক। অনেকের আবার মনে হচ্ছে এগুলো হয়তো হবারি কথা ছিল। কিন্তু আমাদের এই বাংলাদেশ মাত্র ২ দশক আগে তো এমন ছিল না। নারীরা সমান অধিকার নিয়ে হাজারো প্রশ্ন তুললেও তারা আজও কিন্তু পুরুষশাসিত সমাজে নিরাপদ নয়।

সারা দেশে আজ দেখতে পাই অহরহ ধর্ষনের ঘটনা। কিন্তু এইসব বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে নেই কোন আক্ষেপ। সবাই প্রায় বেমালুম। যতই দিন যাচ্ছে আর এই সব ধর্ষনের ঘটনা বেড়েই চলছে। চলন্ত বাসে ধর্ষণ, দলবেঁধে ধর্ষণ, মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ, প্রাইমারী পড়ুয়া মেয়ে ধর্ষণ, ৫ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ, শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণ,কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করার পর হত্যা, ঢাকায় চলন্ত বাসে আদিবাসী নারী ধর্ষণ, গার্মেন্টস কর্মী ধর্ষণ, রাস্তাঘাটে নিত্য ধর্ষিত হচ্ছে এদেশ সহ সারা বিশ্বের হাজারো অবলা নারী।

সভ্যতার এই যুগে যেখানে নারী আর পুরুষ একসাথে কাজ করার কথা কিন্তু সেখানে এভাবে দিনের পর দিন নারী নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। অহর্নিশ যদি এভাবে নারীরা ধর্ষিত হয় তাহলে আমাদের এই সমাজের মূল্যবোধ কোন দিকে যাবে যা কল্পনা ও করা কঠিন হয়ে যায়।

নারী নির্যাতন কারো ব্যক্তিগত সমস্যা মনে না করে এর প্রতিরোধে আমাদের সবারি এগিয়ে আসা উচিত। আজ হয়তো আপনার পাড়া প্রতিবেশীর কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে! আগামীকাল যে আমার আপনার বোন নির্যাতিত হবে না তার নিরাপত্তা কে দিবে। এটা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রর একার না। এটা জাতীয় সমস্যা। এটা প্রতিরোধে আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। এটা অবসান করার জন্য যার যার ধর্মীয় রীতিনীতি আর অনুশাসন মেনে চলা উচিত। নারীদের প্রতি অবজ্ঞামূলক মনোভাব আমাদের দূর করতে হবে। অন্ধকুসংস্কার, নেতিবাচক সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে।

কবি নজরুল বলে গিয়েছিলেন :
কোন কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারি,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষ্মী নারী।

নারীরা সারা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে নিরাপদে থাকুক এটাই কামনা করি।

লেখক: ক্ষুদে লেখক ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.