হৃদয়ের চোখে থেকে মক্কা-মদিনার পথে প্রান্তরে

[author ]সোহাইল আহমদ সোহেল[/author]

32 nk mokka modina suhel

পৃথিবী নামক ভূখণ্ডে আমরা যে নগরীকে নিরাপদ ও মর্যাদার লালনভূমি বলে থাকি, নিঃসন্দেহে তা মক্কা শহর ব্যতীত অন্য কোন স্থান নয়। বিশ্ব মানবতার পরিচালনার গাইড পবিত্র আল-কোরআনে পবিত্র শহর মক্কা কে বালাদুল আমিন অর্থাৎ নিরাপদ শহর বলা হয়েছে। মক্কার বায়তুল্লাহ শরীফ অর্থাৎ আল্লাহর পবিত্র ঘর অবস্থিত। ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সারা বিশ্ব পরিচিত আল মামলুকাতুল আরাবিয়াতুছ সাউদিয়াহ এর মক্কা সিটি । ইসলাম ধর্মে আনুগত্য সারা বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের হৃদয়ের তীর্থস্থান হলো সৌদিআরব এর মক্কা এবং মদীনাতুননবী (সাঃ) এর শহরদ্বয় । ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের চতুর্থতম স্তম্ভ হজ্ব পালনার্থে প্রতিবছর ধর্মপ্রান মুসলিম নর-নারী পবিত্র হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেন। স্বচ্ছল মুসলিম নর-নারীর উপর হজ্ব পালন করা অবশ্যই কর্তব্য । প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন যে- “ইন্নাল হাজ্জা ইয়াগছলুজ জুনুবা কামা ইয়াগছিলুল মা’আদদারন”। অর্থাৎ নিশ্চয় হজ্ব মানুষের গোনাহ সমূহকে এমনভাবে পরিষ্কার করে যেভাবে মানুষ পানি দ্বারা গোসল করলে তার শরীরের সকল ময়লা সমূহ দূর হয়ে যায়।

বিত্তবান নারী-পুরুষরা হজ্বের মৌসুমে এবং রমযান শরীফে বায়তুল্লাহ শরীফ এবং নবীজীর রওজা মোবারক জিয়ারতের জন্য বিশ্বের চতুর্দিক থেকে সমবেত হন মক্কা মদীনার পথে প্রান্তরে। মক্কার অদূরে একটি মর্যাদাপূর্ণ শহর হচ্ছে মদীনা মুনাওয়ারা। মদীনার শরীফের পূর্বেকার নাম ছিল ইয়াসরিব। প্রিয় নবী (সাঃ) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় গেলেন তখন এই শহরের নামকরণ করা হলো মদীনাতুল নবী (সাঃ)অর্থাৎ নবীজীর শহর। মক্কা হতে মদীনার দূরত্ব ৫০০ শত কিলোমিটার বৎসরের ১২ মাসই মক্কা-মদীনা শহরদ্বয় লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে। বিশেষ করে জিলহজ্ব মাসে হজ্বের মৌসুমে এর কারনে সারা বিশ্ব থেকে হাজীগনের সমাগম হয় অনেকে বেশী। এছাড়া পবিত্র রমজানুল মোবারকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সমবেত হন অসংখ্য অগণিত বায়তুল্লাহ প্রেমিক নর-নারী। রমযান মাসের শেষ দশকে অনেকে মদীনা শরীফে এতেকাফ করে থাকেন। ২০০৫ সালে পবিত্র এই শহরদ্বয় ছাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ শহর জেদ্দা ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল আমার। হজ্ব পালনের উদ্দেশ্য, হজ্বের সকল হুকুম আহকাম বায়তুল্লাহ সহ মদিনাতুন নবী (সাঃ) আরাফাহ মুজদালিকা, মিনা, জবলে ছু, জবলে নূর, মাকামে ইব্রাহীম, জমজম কূপ, হজ্বরে আছওয়াদ, নবীজির স্থান, সাফা-মারওয়াহ, জান্নাতুল বাকী, মসজিদে আয়েশা (রাঃ) মসজিদে কেবলাতাইন।

ইসলামে প্রথম যুদ্ধ বদর প্রান্তর। আলী (রাঃ) এর বাড়ী। বিশালাকারের খেজুরের বাগান ও তায়েফ প্রাঙ্গন সহ অসংখ্য স্থান নিজ চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। মক্কা মদিনার পথে প্রান্তরে আমার প্রিয় নবীকে মন প্রান দিয়ে খুঁজেছি বার বার। আবু জেহেল, আবু লাহাব, উতবা সাইবা আর মাতবরদের ধিক্কার দিয়েছি বহুবার। দেখেছি নবীজীর দুশমন – ইসলামের দুশমন আবু জেহেলের বাড়ীতে পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য বিরাটাকার সারিবদ্ধ লাইন। বিশুদ্ধ জমজম পানি আর মদিনার খেজুর সঙ্গে নিয়ে প্রিয় মক্কা মদিনা ত্যাগ করি। মক্কা মদিনার প্রেম ভালবাসা চির জাগ্রত থাকুক প্রতিটি মনে প্রানে প্রানে।

বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে যেন মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করার তাওফিক দান করেন। এই মুনাজাত আমার। আমিন! ছুম্মা আমিন!!

লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট, মাখসাই, ফ্রান্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.