লন্ডনের বাঙালীরা বার্মার মাছ বর্জন করুন। জেনোসাইড বন্ধের জন্য আন সান সুচিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে নেয়া হোক

রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী
আগের মুরুব্বীরা বেশ কিছু কথা বলে গেছেন, সে সব কথাগুলো এখনকার ডিজিটাল যুগে শুনা যায়না। যেমন সিলেটের সমাজে কিছু কথা প্রচলিত আছে, “কোন ছেলে তার মা বাবাকে দেখ ভাল করবে তা হাটু পানিতে বুঝা যায়” আগে বিয়ে শাদী হলে জাত বংশ এসব খোঁজা হতো, এখন আর সে সবের কেউ ধার ধারেনা। বৃটেনের রাজপরিবারের সদস্য হচ্ছেন প্রিন্স চার্লস। ধারনা ছিল চার্লসের মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ যেহেতু বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তাই তার ক্ষমতা ছেলের উপর ন্যস্ত করবেন। কিন্তু মা সেটি করছেননা। রয়েল পরিবার নিয়ে যারা রিসার্চ করেন তাদের মতামত হচ্ছে যেহেতু প্রিন্স চার্লস পথে ঘাটে বিয়ে করেন তাই তাকে রাজা বানানো কতটুকু যুক্তিসংগত হবে সেটি ভাবার বিষয়। ডায়নাকে রেখে কামিলার সাথে ফস্টি নস্টি মা রানী এলিজাবেথ কিছুতেই মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত চার্লসের বিজয় হয়েছে। তিনি তার ঐতিহাসিক প্রেম নিয়েই এগিয়ে গেছেন, এখন কামিলার সাথে ঘর সংসার করছেন। প্রিন্স চার্লস আর কামিলার বিয়ের দিন কামিলার শাশুড়ী রানী এলিজাবেথ রিয়েল হর্স রেইস ( আসল ঘোড়ার রেইস দেখতে স্কট এ চলে গিয়েছিলেন)। সমালোচকরা নাকি বলেন যেহেতু কামিলার মুখ অনেকটা ঘোড়ার মত সেহেতু তিনি আর থাকতে চাননি।
সে যাক বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সব নেতৃত্ব এখন দেখা যায় তাদের অতীত ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করেন অথবা তাদের যদি সিআরবি চেক করা হয়, বংশ মর্যাদা যদি দেখেন তাহলে দেখবেন অনেকেরই সমস্যা আছে। বৃটেনে যদি কারো জন্মের তারিখ বলা হয় তাহলে কম্পিউটারে ক্লিক করলে সব চলে আসে। ইউরোপকে বলা হয় সব কিছুতে তারা অপেন সিক্রেট। আপনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, অথচ আপনার পরিবার নেই তা তো হতে পারেনা। আপনার বিরুদ্বে অভিযোগ আছে আপনি কিছুই হতে পারবেননা। কিন্তু ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে আপনি সব হতে পারবেন। ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে আপনি যদি সুচির মত হন তাহলে আপনি প্রধানমন্ত্রী। আপনি মানুষ খুন করছেন কোনো অসু্বিধা নেই, আপনি মানুষ খুন করার আদেশ দিয়েছেন আপনি জুলফিকার আলী ভুট্টো আপনাকে ফাসির কাষ্টে ঝুলানো হয়েছে আপনার কৃত কর্মের জন্য কিন্তু দেখা যাবে সময়ের বিবর্তনে আপনার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে দেখবেন আমি কামনা করিনা উনবিংশ শতাব্ধীর সর্বশেষ মীরজাফর খন্দকার মোশতাক আহমদের ছেলে বা মেয়ে (যদি থেকে থাকে) ভবিষ্যতে এমপি মন্ত্রী হয়ে যাবে। হয়ে হয়তো সুচীর মত অত্যাচার শুরু করবে।
প্রিয় পাঠক বার্মার আন সান সুচিকে অনেকেই গনতন্ত্রের মানস কন্য অগ্নিকন্য (মতিয়া চৌধুরীর মত) কত বিশেষনে বিশেষিত করেছেন। সুচি নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। কেন পেয়েছেন আমি জানিনা। সুচি কি বার্মায় শান্তী প্রতিষ্টা করেছেন? তিনি কি গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন? গনতন্ত্র যদি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তাহলে তিনি সামরিক জান্তার সাথে আতাত করে ক্ষমতায় আসেন কি করে? সুচীকে ওয়েষ্টার্ন মিডিয়া ন্যালসেন মেন্ডেলা ও মহাত্মা গান্ধীর সাথে তুলনা করেছে!! হায়রে, কোথায় রাজরানী আর কোথায়-চু****নী। কোথায় লিভারপুল আর কোথায় ফকিরাপুল!! একটি ব্যাপার আমি লক্ষ্য করেছি ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে কেউ যদি কিছু করে তাহলে পশ্চিমের ষ্টাবলীষ্টমেন্ট তাকে নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘঠিয়ে ফেলে। তাকে বুঝে না বুঝে অনেক পুরস্কারে ভুষিত করে!
রোহিঙ্গার বিষয়টি নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে হয়েছে এবং হবে। আমি খুবই আগ্রহ নিয়ে সবার বক্তব্য শুনছি। কিন্তু লিখছিনা। লিখলে তো মতামত দিতে হবে। সম্প্রতি বৃটেনের ফরেন সেক্রেটারী সুচিকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, তিনি কনডেম করেছেন তবে সে কনডেমেও কেমন জানি ভালোবাসার কথা রয়েছে। বরিস জনসন বলেছেন আন সান সুচি নাকি “মোস্ট ইনসাপায়ারিং ফিগার ইন আওয়ার এইজ“ তার এ মন্তব্যকে সাবেক কনজারভেটিব পার্টির নেত্রী সাইদা ওয়ারসী সমালোচনা করেছেন। লেবার দলের বৃটিশ বাংলাদেশী এক এমপি বিবিসির নিউজ নাইটে বলেছেন বার্মার ম্যালেটারী নাকি এসেবর জন্য দায়ী। তাহলে কি আন সান সুচি ধুয়া তুলশী পাতা? কে কিভাবে সমালোচনা করবেন তাও যদি না বুঝেন তাহলে কি করার আছে?
প্রিয় পাঠক পৃথিবীটা বড় জটিল এক জায়গা। আন সান সুচী মানুষ মেরে শেষ করে দিচ্ছে। কি বিভিৎসভাবে অমানবিকভাবে মানুষ হত্য করছে। অথচ গোটা দুনিয়ার মানুষ অবাক বিস্ময়ে তা দেখছে। ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোদিজী সুচির সাথে মিটিং করেছেন! বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে সুচি নাকি তার দেশের এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষ এত নীচে নেমে যায়? যে মহিলা বার্মায় গনতন্ত্র প্রতিষ্টার জন্য আন্দোলন করেছেন, কারাভোগ করেছেন, হাউস এরেষ্ট ছিলেন! এটা কি কারাভোগ? পরবর্তীতে নোবেল প্রাইজে ভুষিত হয়েছেন সেই মহিলা এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষ জবাইকে উৎসাহিত করছেন? তিনি অবলীলায় বলছেন তার দেশে কিছুই হচ্ছেনা, কিছু জঙ্গীরা উৎপাত করছে! এসব জঙ্গীরা নাকি বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ত। জঙ্গিরা যদি উৎপাত করে তাহলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের টেকনাফ এ ঢুকে পড়ছে কেন? কেউ কি তার দেশ থেকে পালিয়ে আসে? রোহিঙ্গার মানুষকে যখন নির্বিচারে হত্য করা হচ্ছে গোট পৃথিবী তখন হাসছে। যে হাসিতে কোনো দরদ নেই, মায়া নেই, মহব্বত নেই। একমাত্র তুরস্ক গর্জ্জে উঠেছে। বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন তুরস্কের ফাস্ট লেডি। পররাষ্টমন্ত্রী ও ছুটে এসেছেন। খোজ খবর নিচ্ছেন রোহিঙ্গাদের। বাংলাদেশ মানবিক দিক বিচার করে আশ্রয় দিয়েছে। আশ্রয় দিতে হবে। বার্মা সরকার তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়নি দিতে চায়ওনা। পৃথিবীতে টেকনোলোজীর রেভুলেশন ঘঠে গেছে। আন সান সুচি কি সেটা জানেননা? সবই তিনি জানেন। না জানার ভান করছেন। এখন কে কি করেন তা বলতে হয়না। সেটেলাইটে সব ধরা পড়ে।
প্রিয় পাঠক আন সান সুচির যদি জীবন ইতিহাস পড়েন তাহলে দেখবেন তার জীবনের অনেক করুন কাহিনী। তিনি প্রেম করেছেন এক পাকীস্তানী ছেলের সাথে বিয়ে করেছেন বৃটিশ নাগরিক মাইকলকে। মাইকল যখন মৃত্যু পথযাত্রী তখন তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রী সুচিকে দেখার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন বার্মার এম্বেসীতে। বার্মা তাকে ভিসা দেয়নি। বার্মার সামরিক সরকার সুচি-কে বলেছে তিনি যদি বৃটেনে গিয়ে তার স্বামীকে দেখতে চান তাহলে সব ব্যবস্থ্ াসামরিক সরকার করবে। কিন্তু সুচি তাতে রাজী হননি। প্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো বলবেন স্বামী থেকে তার কাছে দেশ বড় ছিল। যদি আপনারা এটি বলেন তাহলে বলবো, যে স্বামী তাকে সুচি হতে সহযোগিতা করেছিল সেই স্বামী যখন মৃত্যু পথযাত্রী তাকে কি উচিৎ ছিলনা শেষ বিদায় দেয়া? মাইকেল চেয়েছিলেন তার শেষ বিদায়টা যেন সুচি দেন, কিন্তু মহিলা আসেননি। গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সুচী সারাজীবনই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তিনি সফল হয়েছেন। মানুষ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়। আজ রোহিঙ্গার হিন্দু মুসলিমকে নির্বীচারে হত্যা করা হচ্চে এবং সেই হত্যাকান্ডকে নোবেল বিজয়ী সুচি সমর্থন করছে। অথচ সুচি যখন হাউস এরেষ্ট ছিলেন তখন এই রোহিঙ্গার মানুষগুলো তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন। অথচ আজ এই রোহিঙ্গার মানুষগুলো তাদের পাচ পুরুষের ভিটেমাটি শান্তীতে ত্যগ করতে পারছেনা। অনেকে বলছেন সুচি যে ভাবে তার স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে পারেননি, রোহিঙ্গার মানুষরাও যাতে সেটি করতে না পারে সেই ব্যবস্থা তিনি করছেন। অন্তরের এই মর্ম বেদনা সুচি কেন রোহিঙ্গাদের উপর মেটাবেন?
শেষ কথা হচ্ছে : অনেকেই সুচীর নোবেল ফিরিয়ে নেয়ার জন্য নোবেল কমিটির কাছে আবেদন করছেন। অনলাইনে পিটিশন করছেন। সবার অবগতির জন্য বলা দরকার নোবেল প্রাইজ একবার দিয়ে দিলে সেটি ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই।
বার্মার মাছ লন্ডনের বাঙালীরা সারাক্ষন বাজার থেকে কিনে আনেন। রুই, মৃকা, সহ এমন কোনো মাছ নেই যে বার্মা থেকে আসেনা। আমার অনুরোধ আজ থেকে বার্মার মাছ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বার্মার মাছ যদি আমরা না কিনি তাহলে অর্থনৈতিক ভাবে বার্মা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যারা লন্ডন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ দয়া করে বার্মার মাছ ক্রয় করা বন্ধ করুন। যে সব দোকানে বার্মার মাছ রয়েছে সে সব দোকানের মালিকরা যেন বার্মার মাছ ডাষ্টবিনে ফেলে দেন। বার্মাকে জানিয়ে দিতে হবে সুচীকে জানান দেয়া দরকার যে আমরা বাঙালীরা তোমার মাছ সহ যে সব প্রডাক্ট বার্মার রয়েছে তা বয়কট করতে বাধ্য হলাম।
লেখক সভাপতি ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব

ব্যবস্থাপনা পরিচালক চ্যানেল আই ইউরোপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.