বদরুল জানে যে তার কিছু হবেনা

[author image=”https://scontent-sin6-1.xx.fbcdn.net/v/t1.0-1/c0.0.734.734/13882663_10209838761709430_2660497264205838333_n.jpg?oh=1c07e7faf32d1691c1af9e3438b81505&oe=58A82565″ ]ইলোরা জামান[/author]

bodrul

ইলোরা জামানঃ

বদরুল জানে যে তার কিছু হবেনা, এজন্য সে নির্বিকারভাবে এইকাজ করতে পারে প্রকাশ্যে। যারা দর্শক ছিলেন, তারাও জানে যে বদরুলের কিছু হবেনা। এজন্য তারাও যায়নি বাঁচাতে। আর এটাই বাংলাদেশ।

আপনি যখন নিজের দেশকে ভালোমত জানছেন যে দেশের এই হল অবস্থা, তখন কি আপনি কোনো অ্যাকশনে যেতে সাহস করবেন? সুতরাং জেনেশুনেই কেউ এগিয়ে যায়নি নার্গিসকে বাঁচাতে। এবং সেটিই বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে বলে মনে করি।

আমিও যেতাম না। কারণ আমি আমার পুলিশ প্রশাসন সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীদের খুব ভালো করে জানি। আমি জানি তারা কতটা পিশাচ হতে পারে। এখন প্রমাণ হল, বাকিরাও জানে। প্রমাণ হলো এদেশের বিচার ব্যাবস্থা, শাসন, প্রশাসন কোনো কিছুর প্রতিই এদেশের একজন নাগরিকেরও বিন্দুমাত্র ভরসা নেই।

কারোও অজানা নেই আজ এদেশের সত্যিকার চিত্রটি। বরং তাদের নিজেদের ক্ষতি হয়ে যাবে যদি বাঁচাতে যেতো মেয়েটিকে। পুলিশের কাছে গেলে উল্টো যিনি পুলিশে খবর দিয়েছেন তিনিই তখন আসামী বনে যাবেন।

বদরুলের পক্ষে তখন বুদ্ধিজীবী জাফর ইকবাল সাহেবেরা দাঁড়িয়ে যাবেন। তিনারা বলবেন, ‘এই ছেলে এসব করতে পারেনা। বিশ্বাস করিনা। তার লিখাগুলো পড়ুন। সে কোন আদর্শে উজ্জিবীত তা দেখুন। সে এইকাজ করতেই পারেনা। আমি নিজেই দেখেছি বদরুল নার্গিসকে ওই লোকটির কাছ থেকে বাঁচাতে গিয়েছিলো।’ পত্রিকায় পরেরদিন মিডিয়াম শট ছবিতে একই ফ্রেমে বদরুলকে জাফর ইকবালের আশীর্বাদ নিতে দেখা যাবে।14519780_527347064124573_4176560697038656858_n

এসব ব্যাপারগুলো যে ঘটে এবং ঘটবে, তা আজ এদেশের প্রতিটি নাগরিক খুব ভালোভাবেই জানে। আর এগুলো জানে বলেই কেউ এগিয়ে যায়না সাহায্য করতে। একদম সিম্পল এটি। কেউ অস্বীকার করতে পারবেন? না, পারবেন না।

এই যখন বাংলাদেশের অবস্থা, তখন ‘আমিও কোনো রিস্ক লইনা।’
এই ভিডিওচিত্র ধারণ এবং নার্গিসের সাহায্যে কেউ এগিয়ে না আসা আরেকবারের মত বাংলাদেশের শাসন ও বিচার ব্যাবস্থার পুরো চিত্র উদোম করে দিলো বিশ্ববাসীর সামনে। যারা দাঁড়িয়ে দেখেছেন সেইদিন ওই ঘটনা, তাদের জিজ্ঞেস করুন, কেন যান নি মেয়েটিকে বাঁচাতে?

তারা প্রত্যেকেই বলবে গেলেতো উলটা আমি ফেঁসে যেতাম! বদরুল ঠিকই বহাল তবিয়তে থাকতো, আবার খুন করতো।
দিনের আলোয় শত শত মানুষের সামনে, নির্বিকার, ধীরস্থির, শান্ত মাথায়, অভ্যেস আছে কুপিয়ে এরকমভাবে কোপের পর কোপ দিতে দিতে নার্গিসের কান কেটে মাটিতে ফেলে দিলো, মাথা বরাবর কুপিয়ে কুপিয়ে খুলি ফালা ফালা করে ফেললো। কেউ এগিয়ে গেলোনা। এবং তা সঙ্গত কারণেই।
কিউট বাংলাদেশ, লাভ ইউ বাংলাদেশ, এইসব ফাঁপা ঢোল মার্কা লিখালিখিতে লাইকা লাইকি করলেও সবাই খুউউব ভালোমতই জানে কিউট বাংলাদেশের আসল চেহারাখানা।

[লেখিকাঃ বিশিষ্ঠ কলামিস্ট]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.