আব্দুল মুছব্বির, ফ্রান্স:
সরকারের লাগামহীন মিথ্যাচার এবং দাম্ভিকতায় বিএনপিসহ দেশের সব বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ আজ অসহায়। সরকার বিরোধী দলের কর্মী ও নেতাদের নামে বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। মিথ্যা মামলাগুলোতে আইন আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নেতা-কর্মীরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও, তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখন সরকার রেওয়াজে পরিণত করে ফেলেছে।
দেশের মানুষের কাছে সম্মানিত হিসেবে বিবেচিত রাজনীতিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন করে তাদের মিথ্যা অভিযোগে আটক, রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা এবং কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে অভিনব কৌশলে ।
বিএনপিকে ধ্বংস করে দেশে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করতে সব পর্যায়ের নেতা কর্মীদের কারারুদ্ধ করা হচ্ছে। অন্যায়-কে অত্যাচার আর দুর্নীতি শাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে দলমত-নির্বিশেষে সকলের সোচ্চার হওয়া ছাড়া বিএনপির যখন কোন বিকল্প নেই, যখন আন্তর্জাতিক বিশ্বে লবিং বিএনপি’র একমাত্র উপায় তখন ধারাবাহিক নাটকীয়তা চলছে ফ্রান্স বিএনপিতে।
দেশে বাড়ি গাড়ি বানাবেন সেই আশায় সভাপতি সম্পাদক পদের আশায় দৌড়াচ্ছেন এদিক ওদিক। সৃষ্টি করছেন নানা নাটক। নাটকের গতিতে দলের মূল কর্মীরা এখন নীরব।
এ পর্বে ফ্রান্স বিএনপির সভাপতির কথা লিখছি। সৈয়দ সাইফুর রহমান। দীর্ঘ এক যুগ থেকে সভাপতি তিনি। ঘটিয়ে যাচ্ছেন নানা নাটকীয়তা। দীর্ঘ ৮ বছর পর নানা নাটকীয়তা কাটিয়ে ২০১৪ সালে সৈয়দ সাইফুর রহমান কে সভাপতি করে গঠিত হয় ফ্রান্স বিএনপি’র কমিটি। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর সৈয়দ সাইফুর রহমান ই সভাপতির চেয়ার নিয়ে ঘুরেছেন এদিক ওদিক। যদিও আহসানুল হক বুলু প্রতিপক্ষ সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছিলেন।
তবে রাজনৈতিক দৌড়ে সবাইকে পেছনে ফেলে সুকৌশলী সাইফুর আবারো ২০১৪ সালে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পান। যদিও প্রথমদিকে তিনি এ দায়িত্ব নিতে চাননি। পরে ‘সোনার হরিণ ছাড়ে কে’ ভেবে সভাপতি হিসাবে নিজের পরিচয় দেয়া শুরু করেন।
আবারো তিনি শুরু করেন কৌশলের খেলা। ঐক্যবদ্ধ দলের মধ্যে গড়ে তুলেন বিভক্তি। শুরু হয় শক্তি প্রদর্শনের উলঙ্গ খেলা। বিভক্তি এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় হিসাব করে বলতে পারেননা সাধারণ কর্মীরা ফ্রান্স বিএনপিতে কত গ্রূপ। সৈয়দ সাইফুর রহমান একাই নায়ক। শুরু করেন বহিস্কার খেলা। নিজেকে ঠিক রেখে কখনো সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে কখনো আবার সাংগঠনিক সম্পাদকের পক্ষে নেন অবস্থান।
এর ফলশ্রুতিত্বে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোন সভা সমাবেশ এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ,তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের জন্মদিন ও বাংলাদেশ এর জাতীয় কোন দিবসে ফ্রান্স বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেনি। বাংলাদেশে বিএনপি যখন দিনের পর দিন মার খাচ্ছে তখন ফ্রান্সের মত দেশে দলের পক্ষে লবিং করা দূরের কথা নিজেদের বহিষ্কারের নাটক চালিয়ে যাচ্ছেন এক যুগের মহারতি সৈয়দ সাইফুর রহমান। নিজেকে এখনো সভাপতি হিসাবে যোগ্য মনে করছেন তিনি।
এদিকে ২০১৬ সালের ১০ অক্টবর কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কমিটিকে ভেঙে নতুন কোন পথে যাচ্ছে না। ফ্রান্স বিএনপি।ফলে দলের ত্যাগী নেতারা অনেকেই সরে গেছেন দল থেকে। দোষারোপ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। কর্মীরা ফেইসবুকে নিজের দুঃখ জাহির করে আছেন শান্তিতে।
বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করেন ফ্রান্সের সাধারণ কর্মীদের প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন চলবে। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারাই এরকম নাটক তৈরিতে যোগান দিচ্ছেন।
আসছে ধারাবাহিক ভাবে বিস্তারিত

