ছাগলে একবার মুখ দিলে সেই গাছ আর বাড়েনা। এরকম একটি প্রবচন প্রচলিত আছে। এই দুই তরুণী ধর্ষণ কেইসে শাহবাগীরা মুখ দিয়েছে। এমনি জঘন্যভাবে মুখ দিয়েছে যে তাদের লেখাগুলো পড়লে কোনো সাধারণ মানুষ ধর্ষণের যে নিগ্রহ, যে বেদনা, যে সিম্প্যাথী থেকে বিচারের জন্য প্রতিবাদ করতে চায় তা আর আসবেনা। এতই কুরুচিপূর্ণ আর রগরগে তাদের ধর্ষণদৃশ্যের বর্ণনা! যেন ক্যামেরাম্যান ছিলো ওখানে ওরাই।
এভাবে ধর্ষিতাকে আরো উন্মুক্ত করে দেয়ার এই হীন প্রয়াসের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। নারীবাদী উইমেন চ্যাপ্টারের উনাদের মাথার ভেতর যদি বিন্দুমাত্র মগজ থাকতো তবে ধর্ষিতাকে আরো শতবার এভাবে শব্দে শব্দে আবেগ মিশিয়ে ধর্ষণ হওয়া থেকে বিরত রাখতে উনারা আন্দোলন করতেন সেইসব ধর্ষকামী শাহবাগীদের বিরুদ্ধে যারা নিজের সুপ্ত মর্ষকামের অবদমন ঘটাচ্ছে বানিয়ে বানিয়ে রগরগে দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে লিখে লিখে।
কোনো সভ্য দেশে এই নজির নেই। কিভাবে কে কি করেছিলো এত ডিটেইলস লিখবার প্রয়োজনীয়তা বিন্দুমাত্র না থাকার পর যারা এসব লিখছে তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা বিচার চায়না। তারা আনন্দ চায় আউট অফ দিস টপিক। সিম্পল। যেসব বর্ণনা তারা দিচ্ছেন তা মুদ্রণযোগ্য নয় আমার পক্ষে। নোংরামোর সীমানা ছাড়িয়ে গিয়ে নোংরামো এগুলো।
দুইদিন আগেই মাত্র লিখেছিলাম যে একাত্তরের ঘটনার সাথে চটি মিশিয়ে তারা লিখতো গল্প। যেন যুব সমাজ তা খায়। তারা পর্ন ফোরামে সেসব গল্প ছাড়তো। পাকি আর্মিরা বাঙালী নারী নিয়ে কি করেছে সেইসব গল্প। এভাবেই সেসব রগরগে নোংরা গল্প ইতিহাস হয়ে সেঁটে গিয়েছে। অসভ্যতায় এদের কল্পনাশক্তি এতই তীব্র যে এরা এখন এই ধর্ষণ নিয়েও রগরগে গল্প লিখছে। এভাবে তারা প্রতিবাদ করছে ধর্ষণের।
আমার জিজ্ঞাসা, যে দুটো মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে তারা কি চায় তাদের ওখানে ঘটে যাওয়া ঘটনা সবাই দেখুক? তাহলে সেই ঘটনা সবাই পড়ুক, এটি কি তারা চান? যদি না চান তবে এসব গল্প লিখাতে তাদের কনসেন্ট আছে? যদি না থাকে তবে নন-কনসেনসুয়াল এইসব ধর্ষণের বর্ণনা যে আরেকটি ধর্ষণ, এটি কি তারা বোঝেন?
কিছু পত্রিকা আগে এই কাজটি করতো কাটতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। এখন সেসব কিছুটা বন্ধ হবার পর শাহবাগীরা ফেইসবুক বেছে নিয়েছে সেই গ্যাপ পূরণ করতে গিয়ে। ভিডিও দৃশ্য ছড়িয়ে দেয়া আর সেই দৃশ্য বর্ণনা করা লেখার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
কিছু নারীবাদী আছেন যারা এইসব লেখাকে প্রতিবাদী লেখা মনে করে নিজেরাও এতে সম্পৃক্ত হন। যা অত্যন্ত লজ্জার। নিজেদের সম্ভ্রমের এইভাবে হাতে হাতে বিক্রি দেখে আমি আহত আর হতাশ বোধ করি প্রচণ্ড। কিন্তু উনারা যদি চান যে তাদের ঐ মুহুর্তের প্রচার দরকার আছে প্রতিবাদী হতে গেলে, কিংবা সেই আদলে বানানো গল্পের প্রচার দরকার আছে ধর্ষণের মত জঘন্যতম অপরাধের বিচার চাইতে গেলে তবে ঠিক আছে। এবং চালিয়ে যান।
আপনাদের এইসব প্রতিবাদে ভূ-লোকে পুলক জাগুক। আরো একবার দোদুল দোলায় আনন্দ শিহর লাগুক। কার কি!
লেখিকাঃ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কলামিস্ট


