[author image=”https://fbcdn-profile-a.akamaihd.net/hprofile-ak-xaf1/v/t1.0-1/c0.0.735.735/10945518_10205741779287430_7335511967658838426_n.jpg?oh=0fbeb986490a8842f0b6eb4f0594f8e3&oe=56BEF1AA&__gda__=1454562139_95b3cc3a316523a2749da90fe907f29d” ]ইলোরা জামান[/author]
মানুষের মত জীবন যারা পায়নি, মানুষের মত মরণ তারা কিভাবে পাবে? ধরে নিলাম তারা মানুষ ছিলোনা। আপনি কি পদদলিত হয়ে কিংবা পায়ের তলায় পিষ্ঠ হয়ে মারা যাওয়া কোনও লাশ দেখেছেন? দুমড়ানো মোচড়ানো থ্যাতলানো টর্মেন্টেড নারী ও শিশুর শরীর? দেখেছেন? যাকাত প্রার্থীর মধ্যে ৭৫ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা থেকে শুরু করে ২ বছর বয়স্ক শিশু সহ যারা পদদলিত হয়ে কিংবা যাকাত দাতার প্রহরীদের লাঠির বারি খেয়ে মারা গিয়েছেন, তারা মানুষ ছিলোনা।
– এদেশের আদমশুমারিতে তারা সহ আরো কোটি কোটি মানুষের নাম থাকলে এদেশ নিু আয়ের দেশ হত, দরিদ্রসীমার নিচে থাকতো। তা যেহেতু অফিসিয়ালি অফ করা হয়েছে সেহেতু ঐ মানুষগুলোর অস্তিত্ব নেই এদেশে। কম্যুনিজমের লজ্জা ঢাকতে রাশিয়া যেমন ভিক্ষুক নিধন করেছিলো, যেমন প্রাচীরের ভেতরে অর্থনীতির নগ্নাবস্থা প্রকাশ করতে দেয়নি অনেককাল কিন্তু ভেতরে হয়ে গিয়েছিলো খোকলা, ঠিক তেমনি স্বৈরতন্ত্রের আদলে রচিত আজকের এদেশীয় গনতন্ত্রে দরিদ্ররা শুমারিতে আসবেনা।
– এদেশে জন্ম নিয়ে আমরা বিবিধ মৃত্যুর সাথে পরিচিত। অস্বাভাবিক ভয়ংকর সব মৃত্যু। পানিতে ডুবে কয়েকশত প্রতিবছর, রোড অ্যাকসিডেন্টস এ মগজ নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে- চেনার অযোগ্য সব শরীর, গুলি খেয়ে ঝাঁঝরা হয়ে, বালু সিমেন্টের বস্তায় নদীতে ডুবে, জবাই হয়ে, ভবন ধ্বসে হাজার খানেক। কিংবা গার্মেন্টস কারখানায় লোভের কাবাব হয় প্রচুর প্রাণ। মৃত্যুর অস্বাভাবিকতার বৈচিত্রে এই দেশকে টপকে যেতে অন্য কেউ পারবেনা দূরতম সময়েও। প্রকৃতিও যেন বিমাতাসুলভ আচরণ করে দরিদ্র আমাদের সাথে। এত কষ্টের মৃত্যু যারা পেলো তারা যেনো জান্নাত পায়, কামনা করি।
– আর যেসকল আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়া ধনী বকধার্মিক এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর লাশের স্তুপের ওপর পাড়া দিয়ে বেহেশতের শরাবন তহুরা পান করতে চায় তাদের জন্য একদলা থুথু। ধর্মের নামে চরম অধর্ম হল এভাবে ঢাক পিটিয়ে শোর বাধিয়ে কোনও দান খয়রাত করা। ইসলামে এসবের স্থান নেই। দান করবার ক্ষেত্রে বলা আছে এমনভাবে দেবে যেনো এক হাত টের না পায় অন্যহাত দিয়ে দানের খবর। অথচ আমরা করি ঠিক তার উল্টো। আমি কতবড় দানবীয় দানবীর হয়েছি তা সবাইকে না দেখালে কিভাবে আরো প্রসংশার যোগ্য হব? দুনিয়ার জৌলুশ মরার আগ পর্যন্ত করে যাই, বাকিটা আখিরাতে দেখা যাবে। প্রসংশা প্রাপ্তিতে খোদাকেও ছাড়িয়ে যেতে চাই যেনো!
– আফসোস, আমরা এখন পর্যন্ত ইসলামের সঠিক শিক্ষা দান করতে পারিনি এসব মূর্খ টাকার কুমিরদের। সরকার ব্যাবস্থা নেবেনা। এরকম ঘটনা আবার ঘটবে। আমাদের শিক্ষাগুলো, লিখাগুলো নিজেদের মধ্যে ঘুরপাক খায়। ধর্মীয় নেতারা ঐদেশে বেশিরভাগ রাজনীতির বাখরা আর আসল দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় কিংবা ইচ্ছে করেই চেপে যান অনেক কিছু, ভয়ে।
– যখন কার্ড বিলি করা হচ্ছিলো, মাইকিং করা হচ্ছিলো তখন ঐ এলাকার থানা পুলিশ কিংবা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের কারো কাছে কি সংবাদ যায় নি? আমার জানামতে তাদের কাছে অনুমতি নিতে হয়। জর্দা মালিককে কেন এই অপরাধ করতে বাধা দেয়া হয়নি। কেন তাকে নিষেধ করা হয়নি যে, নিরাপত্তার আয়োজন না করে এত লোক জড়ো করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। পৃথিবীর সভ্য কোনো দেশে যা সম্ভব নয়। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারেনা।
– সরকার যদি আইন করে দেয় যে, এরকম যাকাতে যদি কেউ মারা যায় ভবিষ্যতে, তবে যাকাত দাতার মৃত্যুদ- দেয়া হবে তাহলে আমার মনে হয়, সওয়াব কামানে ওয়ালা নিজে গিয়ে যাকাত প্রদান করে আসবেন বাড়িতে বাড়িতে। যদি নাম কামানো উদ্দেশ্য না হয়, দারিদ্র্য মোচনই যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে শাড়ি প্রদানের নিয়ম বন্ধ করুন। আপনার দু’শো টাকা দামের শাড়িতে দুঃখ মোচন হয় না। আপনার যাকাতের পরিমান ঠিক রেখে কয়েক জনকে এমনভাবে দিন যেনো সেই টাকা দিয়ে মানুষেরা কিছু করে খেতে পারে, পরবর্তিতে যেনো তাকে আরে হাত পাততে না হয়।
– কোয়ান্টিটির দিকে নজর রেখে যাকাত দেয়া হল লোক দেখানো ইবাদত রিয়ার চাইতেও নিকৃষ্ট। মানুষগুলোর জীবন নিলেন সেই লোক। যাকাত প্রদানের জন্য সঠিক নিয়ম শিক্ষার পাশাপাশি আইন করে মানবসৃষ্ট এসব দুর্যোগ ঠেকানো রকেট সায়েন্স নয়। অবৈধ এবং বৈধ রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যদিও দৃষ্টি বলে কিছু নেই তাদের, চক্ষু নেই তো চক্ষুলজ্জার মাথাও নেই যে বসে বসে খাবে। তারা মানুষ গিলছেন প্রতিনিয়ত।


