
গত শনিবার থেকে ফরাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় এক ত্রৃতীয়াংশের উপর লকডাউন আরোপ করা হয়। এ লকডাউন নিয়ে এখন নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম হচ্ছে, জাগছে নানান প্রশ্ন। কোভিড নাইন্টিন শুরু হওয়ার পর থেকে এটি তৃতীয়বারের লকডাউন। করোনাভাইরাসের কয়েকগুন বেশী ছোঁয়াচে নতুন সব স্ট্রেইনের বিস্তার থামাতে নেয়া এই উদ্যোগ এখন হাজার প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনের দৃশ্য দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, ফরাসী প্রেসিডেন্টের নতুন জারি করা “স্বল্পমাত্রার” কড়াকড়িকে ‘লকডাউন’ বলে সম্বোধন করাটা আসলে ঠিক হচ্ছে কিনা!
এটা কি আদৌ লকডাউন?
বৃহষ্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্টেক্স “কনফাইনমেন্ট” অথবা লকডাউন শব্দটি উচ্চারণ করেছেন একবার। এতে ফ্রান্সের প্রথম সারির মিডিয়াগুলো এ শব্দের নতুন নতুন অর্থ বের করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে বাকী মন্ত্রীরা প্রায় তাৎক্ষনিকভাবে এটিকে শুধুমাত্র কড়াকড়ি বাড়ানোর একটি উদ্যোগ বলে জানান।

প্রেসিডেন্টের কাছাকাছি থাকা ফরাসী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বেশ জোরগলায় প্রশ্ন করা হয়- “এটাকে কি আসলে তৃতীয় লকডাউন বলা যায়?”
উত্তরে তিনিও দ্বিধা নিয়ে বলেন- “আমি জানি না এটাকে কি বলা উচিত তবে কিছু বড় পার্থক্য আছে।”
উদাহরণ হিসেবে তিনি লকডাউনের তুলনায় একটু বেশী বাহিরে যাতায়াতের সুযোগ থাকার কথা বলেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরের দিন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ “লক-ডাউন” শব্দটি নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমরা নিজেদের আবদ্ধ করা ছাড়াই ভাইরাসটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছি, আমাদের বরং ভাইরাসটির সাথেই টিকে থাকতে হবে যা আমি এক বছর যাবৎ বলে আসছি।”
অবশ্য লে প্যারিসিয়েনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিছুটা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন “আমরা মানুষকে বাইরে যেতে বাধা না দিয়ে বরং একত্রিত হওয়াটা কমানোর চেষ্টা করছি। পার্কে হাঁটা কিম্বা সাইকেল চালানো ইত্যাদির প্রয়োজন আছে প্রত্যেকের। কোভিড পরিস্থিতি যেহেতু লম্বা হচ্ছে, আমাদের মানসিক ও দৈহিকভাবে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে যেন কোনো বাধা না থাকে সেটা মাথায় রেখে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
বর্তমানের চলা কড়াকড়ি অনুযায়ী কেউ পেশাগত ও জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে পারবেন না। খেলাধুলা বা হাঁটাহাঁটির জন্য ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা নিজ আবাসস্থলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বেড়ানো যাবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এই নিয়ম মেনে প্যারিসের কেন্দ্র থেকে যে কেউ শহরের বাইরে পর্যন্ত যেতে পারে!
গত বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত চলা প্রথম লকডাউনের সাথে পরের বারের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে চলা দ্বিতীয় “হালকা লকডাউন” থেকে ম্যাখোঁ’র লক্ষ্য মোটেই পূরণ হয় নি বলে নানা সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে নতুন এ ঘোষনা। অনেকে একে “হালকা হালকা লকডাউনের খেলা” বলেও কৌতুক করছেন।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
