দোলন মাহমুদ, প্যারিস, ফ্রান্সঃ একটি বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ গন্তব্যস্থল বিশ্বের অনেক পর্যটন খাতের খুব বড় ধরনের ভিত্তি। বিশ্বের ধনী জীববৈচিত্র্য পর্যটন প্রাকৃতিক মূলধন এবং বিশ্বের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ও পর্যটন উন্নয়নে সকলের দ্বায়বদ্ধ্যতা রয়েছে।
আজ আমাদের সম্মুখীন সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত, চোরাশিকার এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যর অভূতপূর্ব মাত্রা। তুলনামূলক ভাবে এর সর্বশ্রেষ্ঠ সংকট এর সম্মুখীন হয়ে আছে আফ্রিকান মহাদেশ। যে আফ্রিকান পর্যটনের অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্পের পিছনে চালিকা শক্তি এই বন্যপ্রাণী। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার গবেষণায় পরিষ্কারভাবে পর্যটন পর্যবেক্ষনে দেখায় যে, বন্যপ্রাণী আফ্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন খন্ডের এক অংশ।
বিগত দশ বছর আগে, ২০ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটকরা আফ্রিকান নানা গন্তব্য পরিদর্শন করেন। আজ, যে সংখ্যা প্রায় ৫৬ মিলিয়ন যা প্রায় তিনগুণ হয়েছে। পর্যটন ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো ও কাজের সুযোগ একটি মৌলিক রপ্তানি বৃদ্ধি সেক্টর এর উন্নয়নের জন্য হাতিয়ার। দক্ষ উন্নয়ন, বিনিয়োগ হিসাবে আফ্রিকান সরকার দ্বারা এই অঞ্চলের বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষন ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা হয় বলে লক্ষ লক্ষ পর্যটক প্রত্যেক বছর এখানে আসেন। এই বছর এর ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ডে এর জন্য বিষয়বস্তু আরো সময়োপযোগী হতে পারে। এটা সত্যিই বন্যপ্রাণী অপরাধ সম্পর্কে গুরুতর ভবে ব্যবস্থা নেবার সময় এখন।
বিশ্ব পর্যটন সংস্থা জানান যে, আন্তর্জাতিক চোরাশিকার প্রচেষ্টা বিরোধী এবং বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সমর্থনে পর্যটন খাত সংগঠিত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ্য। এই ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ দিনে বিশ্ব পর্যটন সংস্থা আহ্বান জানায় যে, অবৈধ বন্যপ্রাণী পণ্যের চাহিদা এবং সরবরাহ উভয় দমন, এর বিরুদ্ধে নীতি নির্ধারন, বেসরকারি খাত ও পর্যটকদের একসাথে বিশ্বব্যাপী এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ডে এর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন এর বার্তাতে জানান যে, প্রানিজগত এবং ফ্লোরা এর লুপ্তপ্রায় প্রজাতির জন্য আন্তর্জাতিক ট্রেড কনভেনশন গ্রহণ বার্ষিকীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩রা মার্চকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘের সদস্য এবং সারা বিশ্ব থেকে তার অংশীদারদের জন্য এই দিন পালন করা নিয়ম বলে জানান এবং তিনি প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে দৃঢ় বার্তা প্রদান করেন যে, “এখন বন্যপ্রাণী অপরাধকে গুরুতর ভবে নেবার সময়”।
অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যে, আইনের শাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। এটা বাস্তুতন্ত্র এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক সম্পদ পরিচালনা গ্রামীণ সম্প্রদায় এবং আদিবাসীদের জন্য একটি প্রধান অন্তরায়। এই অপরাধের বিরুদ্ধে সঙ্গবদ্ধ হয়ে সংরক্ষণ প্রচেষ্টা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অবৈধ কার্যক্রম সংগঠিত হয় যে সকল অস্থির অঞ্চলে সে অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন অপরিহার্য।

