পৃথিবীর নিকৃষ্টতম অসভ্য ইমিগ্রেশন ও এয়ারপোর্ট; যাকে বলা যায় ইতরদের স্বর্গরাজ্য- সেই দেশটিতে ভিনদেশীদের উপর মানবাধিকার এবিউজের খবর আরো আগে থেকেই প্রকাশ পাওয়া উচিত ছিল।
পৃথিবীর সব দেশে আইন-কানুন, শাস্তি, ডিটেনশন, ডিপোর্টেশন ও রিপ্যাট্রিয়েশন ব্যবস্থা আছে। পৃথিবীর অসভ্যতম মহাদেশ বলে যাদের আমরা চিনি সেই আফ্রিকাও ইলিগ্যাল ইমিগ্র্যান্টদের বিচার, শাস্তি, হ্যান্ডলিং, ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। আপনি কারো জন্য জেলখানা তৈরী করলেও তা কিছু নিয়ম মেনে করতে হবে। কাউকে যে কোনো শাস্তি/ মৃত্যুদন্ড দিলেও সেটা কিছু নিয়ম মেনেই করতে হবে। নইলে অত্যাচারী, বর্ণবাদী ও জাতি-বিদ্বেষী মনোভাব থেকে নিরপেক্ষ থাকবেন সে উপায় ও গ্যারান্টি নেই।
আল-জাজিরাকে রায়হান কবিরের দেয়া সাক্ষাৎকার টি যে সঠিক ও সত্য তথ্য বহন করছিল, তা রায়হান কবিরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মালয়েশিয়া নিজেই প্রমান করেছে। যেমনটি পৃথিবীর সব স্বৈরতন্ত্রগুলো করে থাকে। শুধু গ্রেফতার করেই ক্ষান্ত হয় নি, আরো সংবাদ মাধ্যমে জানা গেল আল-জাজিরার মালয়েশিয়াস্থ কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে কর্মীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।
আল জাজিরার এবার উচিত হবে, চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা দেশটির অসৎ ও দূর্নীতিগ্রস্ত অংশের প্রকান্ড বর্ণবাদকে এবার সিরিজ আকারে প্রকাশ করা। দেশটিতে বৈধ শ্রমিকদের কখনোই অধিকার নিশ্চিত করা সহ কোনো বিষয়ে স্বচ্ছতার সাথে নিয়মের আওতায় আনা হয় নি। বরং দূর্নীতিগ্রস্ত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিপদে হয়রানির একটি চক্র (Cycle) তৈরী করা হয়েছে যে চক্রে পড়লে একটি বড় অংশ অবৈধ হতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের বিরুদ্ধ্বেও অভিযোগের অন্তু নেই। লাখ লাখ প্রবাসীর জন্য নিকৃষ্টমানের ও নামমাত্র সেবা চালু থাকলেও জবাবদিহিতা ও নানা অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে দুতাবাসের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে কোনোদিন জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের নজির নেই। অথচ সিংহভাগ প্রবাসীর বেকারত্ব ও অবৈধ হওয়ার পিছনে দূতাবাসের অসরতা কম দায়ী নয়।
সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের বর্ণবাদী আরবদের জুব্বার তলে আসল চেহারা যেমন ধীরে ধীরে গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, তেমনি মালয়েশিয়ার চেহারাও বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
গত ২০১৭ সালে কুয়ালা লাম পুর বিমানবন্দরে একনাগাড়ে বছর ধরে চলতে থাকা গণ হয়রানিতে পড়ে বন্দী হন বিখ্যাত আলেম মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ। মালয়েশিয়ায় ওয়াজ করতে গিয়ে ইমিগ্রেশনে বন্দী হয়ে যে নিকৃষ্টতম অত্যাচার অপমান তিনি সহ্য করেছেন তা তিনি দেশে ফিরে ফেসবুকে পোস্ট করলে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এর জেরে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে ফেরত আসেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান।
বাকস্বাধীনতা না থাকা স্বৈরতন্ত্রের লক্ষন। আর আমাদের কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাত প্রাইভেট সেক্টর ধ্বংস হয়ে গেছে বলা যায়। অতএব এ বিষয়ে আমাদের সরকারের পক্ষে যে তেমন কোনো শক্ত বার্তা মালয়েশিয়াকে প্রদান করা সম্ভব হবে না তা বলাই বাহুল্য।
তাই বৈশ্বিক দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য যা কিছু করার তা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরই করতে হবে।


