
ডিসেম্বরে দেশে যাওয়ার জন্য বন্ধু আলমের সাথে যোগাযোগ করি। তার পরামর্শে বিমানের টিকেট কাটি, যেহেতু ডাইরেক্ট সিলেট ফ্লাইট আর ছেলেকে নিয়ে যাবো। ভাবলাম সময় বাঁচবে আর ছেলের জন্য ও ভ্রমণ খুব আরাম দায়ক হবে। বিমানে উঠার পর মিনিট ত্রিশেক পরে পেছনে গিয়ে দেখি অনেকগুলো আসন খালি। ভাবলাম আরাম করে বসা যাবে। যখনি বসতে গেলাম ঠিক তখন পেছন থেকে একজন বিমান বালা এসে বললেন, এই সিট্ গুলো ক্রু দের জন্য বরাদ্ব, সুতরাং বসা যাবে না। উনি আমাকে খুব বিরক্ত সহকারে আমার আসনে বসার জন্য নির্দেশ দিলেন। চারিদিকে তাকিয়ে কিছু না বলে সোজা নিজের আসনে বসে পড়লাম। ঘন্টা খানেক পরে দেখি বিমানের ৪/৫ জন ক্রু (পুরুষ) লম্বা সিটে নাক ডাকিয়ে পরম আনন্দে ঘুমুচ্ছেন। আর সেই সাথে পর্দা টানিয়ে ভিতরে আরো ২/৩ জন ক্রু (মহিলা) ঘুমুচ্ছেন।
যাইহোক আমার ছেলের বয়স মাত্র ৮ বছর রাতে হটাৎ করে বললো বাথরুমে যাবে। খুব তাড়াহুড়া করছিলো, ঠিক পেছনে একটা বাথরুম ছিল, ঢুকার চেষ্টা করতেই একজন বিমান বালা এসে বাঁধ সাধলেন। বললেন এই বাথরুমটা আউট অফ অর্ডার অর্থাৎ কাজ করছে না। আমার ছুট্ট ছেলেটি খুব চাপাচাপি করছিলো, অবশেষে অনেক কষ্টে আরেকটি বাথরুম খালি হলে তাকে নিয়ে যাই। কিছুক্ষন পর দেখলাম একজন বিমানবালা সেই “আউট অফ অর্ডার” বাথরুমটা ব্যবহার করছেন। তখন মনে হলো বিমানের ক্রুদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এই বাথরুমটি বরাদ্ব ছিল। খুব খারাপ লাগলেও কিছু না বলে তখন বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।
আমার সাথে ছিলেন বাংলাদেশের বিচার বিভাগে কর্মরত একজন জজ। ডিউটি ফ্রি শপ থেকে উনি কিছু কেনা কাটা করেন, কিন্তু যখন উনি রিসিটের জন্য অনুরুধ করলেন তখন ঐ বিমান ক্রুর সহজ সরল উত্তর “বিমানে কোন রিসিট দেয়ার নিয়ম নাই” . উনি বেশ চাপাচাপি করলেন কিন্তু ভদ্রলোকের একই উত্তর আমরা কোন রিসিট দেই না অথবা দেয়ার নিয়ম নাই। তখন জজ সাহেবের সাথে আমিও অনুরুধ করলাম কোন অভিযোগ কিংবা মন্তব্য ফরমের জন্য। দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য শত অনুরুধ সত্বেও আমাদের কপালে কোন ফরম জুটেনি। ফিরতি যাত্রার যাত্রীসেবার ধরণ নিয়ে আবার লিখবো।
যাত্রীসেবার এই ধরণ কিংবা মন-মানসিকতার অধিকারী এইসকল ক্রু দুনিয়ার অন্যকোন স্থানে না থাকলেও বাংলাদেশে আছে এবং বহাল তবিয়্যতে। এরা সর্বদাই ধরাছুঁয়ার বাহিরে। এদের দেখার কি কেউই নেই???
আবুল কালাম চৌধুরী ,আইনজীবী – লন্ডন -ফেইসবুক থেকে নেয়া ।

