সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে:বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই এখন পর্যন্ত কোন না কোন পর্যায়েই শত প্রতিকূলতা ও বাধা-বিপত্তি সত্যেও বিশ্বের মহীয়সী নারীদের মতোই বাংলাদেশের নারীরা অনেক যুগান্তকারী কোন কোন ক্ষেত্রে ইতিহাস নাড়া দিয়ে যায় এমন নিয়ামক শক্তির ভুমিকা পালন করেছেন। এমনকি যখন সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি নারী সমাজের এগিয়ে আসার পথে অনুকূল ছিলোনা, তখনও অনেক মহীয়সী নারী নিজেদের কাজ, কর্ম ও সেবার দ্বারা সমাজ ও সংস্কৃতি উপকৃত করেছেন। এমনি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের অনেক মহীয়সী নারী যুগের পর যুগ নানা উত্থান পতনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সেটা যেমন শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে কিংবা রাজনীতিতেও একই ধর্তব্য।
এমনি ধারাবাহিকতায় না হলেও ভিন্ন এক আঙ্গিকে এবং দলীয় জনপ্রিয়তার উপর ভর করে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার একেবারে শীর্ষে অবস্থানের দুর্লভ গৌরবের অধিকারী। এই দুই নেত্রীর মাঝখানে আরো অনেকেই আছেন। তবে সেই সব আলোয় আলোকিত সকলেই এই দুই নেত্রীর আলোর নীচে নিজেকে দেদীপ্যমান করে তুলছেন।
বর্তমান বাংলাদেশের এই দুই নেত্রীর উজ্জ্বল-অনুজ্জ্বল অবস্থান এবং আলোচিত ও বিতর্কের ডামাডোলে খুব সন্তর্পণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য প্রাক-প্রস্তুতি বা রিহার্সাল পর্ব শুরু করেছেন, বলা যায় অনেকটাই সকলের অগোচরে তিনি রাজনীতির লাইম লাইটে দৃপ্ত পদে এগিয়ে আসছেন। এখন শুধু অপেক্ষা সময়, ক্ষণ ও দিন তারিখের। তিনি আর কেউ নন- আমাদের সকলের পরিচিত, বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির লাখো নেতা কর্মীদের কাছে যার জনপ্রিয়তা আকাশছুয়ী, বিএনপির আজকের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মীনী, মরহুম রিয়ার এডমিরাল এম এ খানের সুযোগ্যা কন্যা ডাঃ জোবাইদা রহমান। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম না নিলেও পিতার সামরিক-কৌশলী সান্নিধ্য যেমন তিনি পেয়েছেন, সেই সাথে রাজনৈতিক পরিবারের বধূ হিসেবে ডাঃ জোবাইদা রহমান নিজেকে অনেকটাই সকলের অগোচরে আদর্শ রমনীর সাথে সাথে একজন পরিপূর্ণ রাজনীতিক হিসেবেই তৈরি করে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমাদের উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ ও বেনজির ভূট্রো, বন্দর নায়েক, ইন্দিরা গান্ধী সহ হালের ইয়াংলাক সিনাওয়াত্রার রাজনীতিতে অভিষেকের সূত্র জোবাইদা রহমানও যে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হবেন- সেটা অনেকেই অনেক আগে থেকেই আচ করতে পেরেছিলেন।
তবে ডাঃ জোবাইদার রাজনীতিতে আগমন যে ব্যতিক্রমধর্মী হবে সন্দেহ নেই। কেননা ইতোপূর্বে সংবাদ পত্রে নানা রিপোর্টের সূত্র ধরে খোদ বিএনপি এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সকলেই সংবাদ পত্রে জোবাইদার রাজনীতিতে আগমনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও ঘটনা প্রবাহ কিন্তু জোবাইদার রাজনীতিতে অভিষিক্তের দিকেই দ্রুত গড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
গতকাল লন্ডনের কুইনমেরি ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে তারেক রহমানের ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান ককোর মাগফেরাত কামনায় সিটিজেন কন্ডোলেন্সের ব্যানারে যে শোক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো তাতে তারেক রহমান এবং ডাঃ জোবাইদা রহমান সভার দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন। এই শোক সভাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও লন্ডন ও বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য বিএনপির নেতা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। আরাফাত রহমানের শোক সভার অনুষ্ঠানটি হলেও সভায় ডাঃ জোবাইদার উপস্থিতিতে লন্ডন, বাংলাদেশের বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং আগত অতিথিবৃন্দ সকলেই বার বার ডাঃ জোবাইদা রহমানের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন এবং এমনকি তারেক রহমান সেই সব ভূয়সী প্রশংসা বারণ করা সত্যেও লন্ডন বিএনপি এবং বাংলাদেশের বিএনপি নেতৃবৃন্দ তারেক রহমান এবং ডাঃ জোবাইদা রহমানের প্রশংসা আর জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের আগামীর প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে উপস্থিত সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। শুধু তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নয়, কেন্দ্রীয়
বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ডাঃ জোবাইদা রহমানের বিএনপির হাল ধরার আহবান এবং বক্তাদের সকলেই বিএনপির রাজনীতির অপরিহার্য নেতৃত্ব হিসেবেই তারা তুলে ধরেছেন প্রকাশ্যে। অনুষ্ঠান স্থলে ডাঃ জোবাইদা রহমান নিজে উপস্থিত থেকে সেই সব বক্তব্য শুনেছেন।
লন্ডনে বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমান একই সাথে বেশ কয়েকটি ফ্রন্ট ওপেন করেছেন তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এতে যেমন তিনি কেবল বিএনপির রাজনীতির গতানুগতিক শ্লোগান মুখর, তেমনি বিভিন্ন ইন্টিলেকচুয়াল ফ্রন্ট, পেশাজীবী গ্রুপ, সাংবাদিক গ্রুপ সহ নানা শ্রেণী ও পেশার বিভিন্ন ফ্রন্টের লোকদের সমন্বয়ে গ্রুপ তৈরি করে কাজ করছেন। এই নানা গ্রুপ আর পেশাজীবীদের অধিকাংশ রিচ অংশ সেদিনের কোকোর শোক সভায় উপস্থিত থেকে ডাঃ জোবাইদার রাজনীতিতে আগমন আর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহনের উদাত্ত আহবান- আগামীর জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জোবাইদা রহমানের অভিষেক যে হতে চলেছে এখন সেটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঢাকার পত্র-পত্রিকায় যেমন বলছেন, খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে বিএনপির হাল ধরবেন জোবাইদা। শুধু খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার নয়- বরং বিএনপির রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে নতুন এবং ক্লিন ইমেজের শিক্ষিত জিয়া পরিবারের এক প্রতিনিধির বড় প্রয়োজন। আর তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়া সেকথা জানেন বলেই ধীর লয়ে ডাঃ জোবাইদা রহমানকে লাইম লাইটে নিয়ে আসছেন- সেটা বলাই বাহুল্য।
লেখকঃSalim932@googlemail.com
