সাংবাদিকতা একটি পেশা, প্যারিসের ?

আবু ফাহমি ,প্যারিসjournalism
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশার মাধ্যমে একদিকে সত্য সুন্দরের প্রচার করা যায়, সমাজের সমস্যা-সম্ভাবনা, অনাচার -অবিচার, দূর্নীতি- রাহাজানির খবর মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়। অপর দিকে পয়সাও ইনকাম করা যায়। পয়সা ইনকামের বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে মাসিক বেতন ভাতাকেই বুঝাতে চাচ্ছি। সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশাও বটে। চরম সাহসিকতার সাথে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে,পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে, বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে এরকম ভূরিভূরি ইতিহাস দুনিয়াজুড়ে। আবার কখনো কখনো সাংবাদিকের কলমও সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে। কলম নামক অস্ত্র তাক করে সাংবাদিকরা অন্যের পকেট থেকে পয়সা হাতিয়ে নিতে মোটেও কার্পণ্য করেন না। অসত্য – বানোয়াট , মনগড়া ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদ পরিবেশন করে সাংবাদিকরা তাদের নামের পেছনে হলুদ সাংবাদিক,খুনি সাংবাদিক , লাল-নীল সাংবাদিক ইত্যাদি লকব লাগায়ে নিয়েছেন এবং কতিপয় সাংবাদিকের নির্লজ্জতায় মনে হবে এসমস্ত লকব পেয়ে তারা তৃপ্ত।

সারা দুনিয়াজুড়ে আজ বাংলাদেশী সাংবাদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। আছেন ফ্রান্স সহ ইউরোপের অনেক দেশেই। তাদের মাধ্যমে আমরা দেশ বিদেশের খবর সহ প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির খবরাখবর জানতে পারি। এজন্য তাদেরকে একটা ধন্যবাদ দেয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রবাসের এই সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম থেকে বেতন ভাতা পান না। তাহলে তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহন করেন কিভাবে? তাছাড়া, প্রবাসের এই সাংবাদিকদের অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা ক্লাস টেন পর্যন্ত; সাংবাদিকতার উপর লেখাপড়া শুন্যের কোটায়। তাহলে কি সাংবাদিকতার জন্য কোন লেখাপড়া বা শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগেনা? এটাই বা হবে কেম্নে? ফ্রান্সেত লেখাপড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজের উপর ডিপ্লোমা করতে হয়। তাহলে কি বাংলাদেশী বলেই সম্ভব!

প্রবাসের এই সাংবাদিকরা কমিউনিটির নিউজের পাশাপাশি অতিরিক্ত বাড়ামীও করা থাকেন। তারা কোন রেস্টুরেন্ট বা বারে বসে ৩/৪ জন মিলে চা কফি পান করছে, বড় কোন নেতার সাথে হাত মিলাতে পারছে , এসমস্ত বিষয়ও তাদের নিউজের অন্তর্ভুক্ত । কোন নিউজে যদি কারো বক্তব্য তুলে ধরতে হয় তাহলে, তারা দু’চারজন মানুষের বাহিরে যেতে পারে না। ঘুরেফেরে একই মুখ আপনার চোখের সামনে ভেসে আসবে। তবে, যে করেই হোক এসকল সাংবাদিকরা কমিউনিটির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের অবস্তার উন্নয়নে স্বচেষ্ট । তাইতো বাংলাদেশের বিপর্যস্ত মানুষের জন্যে হাজার হাজার ইউরো তুলে নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করেছেন বলেও কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.