প্রবাস জীবন ও বাস্তবতা

আবু বকর সিদ্দিক , ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
যে এলাকায় আমার জন্ম। লেখাপড়া যে শহরে |বেড়ে উঠা যে নাগরিক জীবনে| সেই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ প্রবাস জীবন যাপন করে।সে দিক থেকে কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে প্রবাস জীবনের। মানুষের আসল সুখ দুঃখ আর তাদের নিত্যকার জীবন যাপনের ক্ষেত্রে কি হয়ে থাকে।প্রবাস জীবন কেউ আগ্রহে আবার কেউ অতিব দুঃখ কস্টের সম্মুখীন হয়ে যেতে বাধ্য হয়।কিন্তু আসল ঘটনা অন্য জায়গায়!
১৬কোটি মানুষ নিয়ে আমাদের এ বাংলাদেশ | এ দেশে সবাই নানারকম ভাবে জীবন অতিবাহিত করে|কেউবা কৃষক,কেউ শ্রমিক,কেউ শিক্ষক,কেউ ব্যবসায়ী বা আবার অনেকে নানারকম চাকরি করেন| আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি পেশার সাথে জড়িত| এর পরে দেশের জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশভাগ রয়েছেন প্রবাসে|তারা তাদের নিজেদের জীবনের জন্য বেছে প্রবাস জীবন||আর তাদের প্রবাস জীবিনের ঘাম ঝরানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রেখে চলছে|
আমাদের দেশ উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে রেমিটেন্স বিশ্বে ১০ম অবস্থানে।প্রথমে আছে ভারত।ভারতকে বলা হয়ে থাকে বিদেশীদের টাকায় চলা বৃহৎ দেশ।আমাদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিটেন্স বাজার হল সৌদি আরব |পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশীদের মধ্যে ২৮.২ ভাগই থাকেন সৌদি আরবে আর বাকিরা বিশ্বের নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন| আমাদের বাংলাদেশ আসলে মধ্যম আয়ের দেশ। আমাদের দেশের এখনো ২৬% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করতেছে|
যে কারনে আমরা নিজেরা এখনো স্বাবলম্বী নই ।এজন্য যে কোন কারনে আমরা বিদেশীদের উপর নির্ভর হয়ে আছি।এজন্য আমাদের দেশের অনেক মানুষ বিদেশে বসবাস করতেছে|যাদের মধ্যে অনেকে স্থায়িভাবে বসবাসকারী আর অনেকে কাজের জন্য বিদেশে অবস্থান করতেছে|
আমাদের বর্তমান জিডিপি গ্রোথ : 7.05|বাৎসরিক রেমিটেন্স 15.31 বিলিয়ন মার্কিন ডলার|বাংলাদেশের GDP এর 8.21% আসে বিদেশী রেমিটেন্স থেকে|
জিসিসি(GULF COOPERATION COUNCIL) এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী শুধু মিডিল ইস্টেই প্রতিবছর যাত্রা করে ২লাখ ৫০ হাজার মানুষ|আর ২০১৪ সালের রিপোর্ট আনুযায়ি ৪৩ লাখ মানুষ শুধু শ্রমিক হিসাবেই বিভিন্ন দেশে কাজ করেন| আর সর্বশেষ ২০১৬ সালের তথ্যানুসারে ৭ লাখ ৪৯ হাজার দুইশত ৪৯ জন বিভিন্ন দেশে অভিবাসিত হয়েছেন||এছাড়া প্রতিবছর ৫ লাখ মানুষ বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে অন্যত্র যান|
প্রবাস জীবিনের মানুষের শুরুর গল্পটা একটু দেখে নেয়া যাক |দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইংল্যান্ড এ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে সেখানে সস্তা শ্রমিকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়|১৯৫০ দশকের শুরুর দিকে সিলেট অঞ্চল থেকে কিছু মানুষ ইংল্যান্ড যাওয়া শুরু করে|এর পরে ৬০ দশক এবং ৭০ দশক পর্যন্ত মানুষ ইংল্যান্ড যায়|পরবর্তীতে ৭১ সালে যুদ্ধ হওয়ার কারনে মানুষ বিদেশ যাওয়া বন্ধ করে দেয়| ১৯৭৩ সালের শুরুর দিকের কথা|আরবে তখন তেলের রমরমা ব্যবসা|তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সস্তা শ্রমিক পেতে শুরু করে|আর তাদেরই লিস্টে যুক্ত হয় আমাদের বাংলাদেশ|তখন থেকেই মানুষের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এখনো চলছে|১৯৭৬ সালের তথ্যানুযায়ী শুধু সে বছরই প্রায় ৬০০০ হাজার মানুষ কাজের জন্য বিদেশ গমন করে যাদের বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যে যান|
মানুষ কেন বিদেশ যায়! প্রথমত নানারকম দু:খ কস্টের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে মানুষ প্রবাস জীবনের দিকে পা বাড়ায়| একটা গল্প দেখা যাক!!
বয়স যখন ষোল বা সতের।হয়তো ক্লাস একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেনিতে পড়ে ছেলেটা।ছেলেটা অনেক মেধাবি।ছোটবেলায় পঞ্চম শ্রেনিতে বৃত্তি পেয়েছিল।আবার ক্লাস এইটের পরীক্ষায় সেরা ফলাফল করেছিল|এসএস সি পরীক্ষায় আবার কেন্দ্রের মধ্যে সেরা চমকপ্রদ ফলাফল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিল|ছেলেটার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তাই না |কিন্তু অভাবের কারণে ঘটতে যাচ্ছে তার কিছুটা বিপরীত |
বয়স যখন গ্রামের মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলার কথা আবার এই বয়সে যখন পুকুরে উদ্দাম সাতার কাটার কথা বা যে বয়সে বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়ার কথা|সেই বয়সে ছেলেকে চিন্তা করতে হয় পরিবারের আর্থিক দুরাবস্থা কিভাবে দূর করা যায় ;কিভাবে তার পরিবারের অভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় |সে নিজেও একা একা চিন্তা করে আর কাঁদে এটা কি জীবন!এই অভাবই নাকি আজ জীবনের সব স্বপ্নের পথে অন্তরায় রয়ে দাঁড়িয়ে আছে|এরকম হাজারো কাহিনি মনের ভিতরে দাগ কেটে থাকে|কিন্তু দু:খজনক যে,আমরা যেহেতু মধ্যম আয়ের একটা দেশ সেজন্য আমরা আমাদের নিজেদের এই সব অভাব অবহেলা করতে পারি না ঠিক তেমনি অস্বীকার করতে পারি না|এরকম হাজারো চিন্তার মাঝে ঘুরপাক খায় ;কি করা যায়!!
ছেলেটা হয়তো চিন্তা করে লেখাপড়া শেষ করে দেশের ভালো মানের চাকরি খুঁজবো |কিন্তু মা বাবা যে অভাবের সংসারে আরো অনেক আগেই আয়ের উৎস খুঁজে পেতে চান তাদের এই কিশোর ছেলের কাছ থেকে|মা বাবা চিন্তা করেন ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে দিলে মন্দ হয় না|চিন্তা থেকেই কিন্তু মানুষের বাস্তব জীবনের কাজ করার ইচ্ছা জাগে|মা বাবা ধীরেধীরে ছেলেকে বিদেশ দেওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তুত হন|মা বাবা যখন তার ছেলের বিদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যস্ত|ঠিক তখনি ছেলেটা শুনতে পায় তাকে বিদেশ পাঠানো হবে|তার লেখাপড়া থেকে মন চলে যায় |আগের মত সে আর কলেজে যায় না আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বের হয় না|ছেলেটাকে সব সময় চিন্তিত মনে হয়|এতে করেই লেখাপড়ার জগৎ থেকে ছেদ ঘটে প্রচুর সম্ভাবনাময় এক কিশোরের|এভাবেই আরো হাজারো মেধাবী তাদের গন্তব্যে যাওয়ার আগেই বাস্তবতার কাছে হেরে যায়| আস্তে আস্ত শুরু হয় বিদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া |
প্রাথমিক পদক্ষেপ :
ছেলেকে বিদেশ দেওয়ার জন্য প্রথমত নিজের যা অর্থ আছে তা একত্র করেন অভিভাবকরা||যদি তারা নিজেরা তা না করতে পারেন অনেক সময় তারা তাদের সমুদয় অর্থ সংগ্রহ করার জন্য নানাজনের কাছে ধরনা দেওয়া শুরু করেন||যদি তা করেও না হয় অবশেষে বাড়ির ভিটামাটি বিক্রি করে সংগ্রহ করা হয় বিদেশ যাওয়ার জন্য সমুদয় অর্থ | এমনো অনেক আছেন যারা জীবনের শেষ মাথা গোজার টাইটুকুও বিক্রি করতে কার্পন্য করেন না!কেন জানেন!!!এইতো বিদেশ গিয়েই প্রচুর টাকার মালিক হয়ে যাবো এরকম স্বপ্ন দেখেন এদেশের হাজারো মানুষ| দেখা যাক স্বপ্নটা কোন দিকে গড়ায়!!
গল্পটা এখান থেকেই শুরু:
বিদেশ গমন করা তখনই প্রত্যাশিত হয় তা যদি হয় অন্য দেশের কৃষ্টি কালচার আর তাদের নীতি নৈতিকতা জানার জন্য যাওয়া।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ লেভার হিসাবে যায়।যাকে বাংলায় শ্রমিক বলা হয়।এই লেভার নামধারী পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার কারনে আমাদের দেশের ভাইদের বিমানবন্দের ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে প্রতিক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।আমার পরিবারের বাবা ও চাচা থাকেন মিডিল ইস্টে।সেজন্য মিডিল ইস্টের কিছু বিষয় আমার জানা।মিডিল ইস্টে স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য আকামা করা হয়।যাতে করে কোন একজন মালিকের আয়ত্তে থাকার জন্য।কিন্তু এটা করাতে আমাদের শ্রমিক ভাইদের গুনতে হয় তাদের বছরের অর্ধেক আয়ের টাকা।আর যে কোন সময় শ্রমিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা এটা মিডিল ইস্টের শেখদের স্বাভাবিক ব্যাপার।
এর পরে রয়েছে তো তাদের আরো দুঃখ সারা মাস হাড় ভাংঙ্গা পরিশ্রম করেও তারা পান না তাদের প্রত্যাশিত অর্থ। আর এজন্য তারা নিজেরা অন্যের দেশে নানাভাবে নিপীড়িত হন।নিজের দেশে রেখে যাওয়া মা আর ভাইবোন বসে থাকেন ভাই অর্থ পাঠাবে বলে।কিন্তু উনি যে ওখানে অনেক দিন না খেয়েও থাকে এটা তো আর দেশের মা বোন জানে না।এর পর তাদের সাথে শুরু হয় আসল প্রতারণা।এ প্রতারণা করে মিডিল ইস্টের শেখরা; শ্রমিকরা তাদের ঘামের অর্থ দেয় তাদের মালিকের কাছে ভিসা রিনিউ করার জন্য,কিন্তু তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ভিসা রিনিউ করে দেয় না বিদেশি ব্যবসায়ীরা।
অতঃপর আবার আমাদের দেশের মানুষের আসল সমস্যা শুরু হয়।বিদেশি মালিকেরা পাসপোর্ট দিয়ে দেয় বিদেশি পুলিশের কাছে আর পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজে এই সব অবৈধ শ্রমিক নামধারী মানুষের।একসময় আর বিদেশে থাকা হয় না আমাদের দেশের শ্রমিক ভাইদের।হঠাৎ গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার কারনে দেশে চলে আসতে হয় প্রতিনিয়ত আমদের দেশের হাজারো ভাইদের।নতুন শুরু হয়েছে দুবাইয়ে কোম্পানি কর্তৃক লেভারদের নানারকম নির্যাতন একদিকে আকামা সমস্যা ;আবার টাকা নিয়ে নিজেও ব্যবসা রিনিউ করতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক মানুষ।আর এভাবেই হয়রানি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে প্রবাস জীবনে।
গল্পটার দৃষ্টি অন্যদিকে নেয়া যাক।এবার আসি মালেয়েশিয়ার কথায়,এখানে কেমন আছে আমাদের দেশের কয়েক বছর থেকে যাওয়া হাজারো শিক্ষার্থী আর অনেক শ্রমিক বন্ধুরা।কেমন কাটছে দিন?প্রতিনিয়ত অতিক্রান্ত হয় কেমন করে।অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়,যেখানে কলেজ বা ইউনিভার্সিটি নামে এ দেশ থেকে অনেক ছাত্র যাচ্ছেন তারা নানারকম হয়রানির শিকার।প্রথমত মালেয়েশিয়ায় যারা স্টুডেন্ট ভিসায় যায় তাদের পোহাতে হয় নানানারকম ভোগান্তি।শুরুতেই তারা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃক নানারকম হয়রানির শিকার হন।কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের রিসিভ করার কথা থাকলেও তারা আসেন না সময়মত।আর এজন্য ১-২ দিন পর্যন্ত অনেককে বিমানবন্দরে বসে বা ঘুমিয়ে কাঠিয়ে দিতে হয় এর উপর আবার রয়েছে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতন।রয়েছে চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য।যেখানে মায়ানমার এর একজন কাজ করে পায় ২০০০ রিঙ্গিত। সেখানে আমাদের বাংলাদেশি ভায়েরা পায় ১০০০-১২০০ রিঙ্গিত।এভাবেই নানারূপ হয়রানির শিকার হন|পুলিশ রাস্তাঘাটে কাগজ চেক করার নাম করে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় অনেক অর্থ।এভাবেই চলতেছে আমাদের দেশের ভাইদের প্রবাস জীবন। এমন করেই শেষ হয়ে যায় হাজারো মানুষের বিদেশে গিয়ে অর্থ রোজগারের স্বপ্ন।
স্বপ্ন হয়ে উঠে দুঃস্বপ্নে।
ইউরোপের কথা না বললেও নয়।
যেখানে যাওয়া মানুষের স্বপ্ন, প্রতিনিয়ত চেস্টা করে যাচ্ছে মানুষ।এমনকি অবৈধ পথে যাওয়ার জন্য সাগর পাড়ি দেয়ার ক্লান্তি মাথাপেতে মেনে নেয়।
লাশ হয়ে যান অনেক। সাগর তাদের জীবনের সাথে করে নির্মম প্রতারণা |
স্বপ্নের ইউরোপে পাড়ি দেয়া হয়না।জানা হয়না সেখানকার উত্তপ্ত দালান কোটার কথা।স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন ই থেকে যায়।কখনো স্বপ্ন লাশ হয়ে যায়।
উত্তপ্ত ইউরোপের দালানে থাকেন
আমার নিজের চাচা।সেই সুবাদে
এই ভদ্রলোকদের আসল ব্যবহার কি সে সম্পর্কে কিছুটা জানার এলবামে রয়েছে।লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায় ইউরোপ পাড়ায়।যাবার পরের কাহিনীটা একটু ভিন্ন,একটু ব্যতিক্রম।আমদের দেশ ফাস্ট ওয়াল্ড কান্টির অন্তঃভুক্ত নয়।সেজন্য প্রথমেই ভিসা সমস্যা। দৌড়াতে হয় এক দরজা থেকে অন্য দরজায়।এছাড়া ও আমাদের দেশে ইউরোপ এর অনেক দেশের দুতাবাস না থাকার কারনে ভারতের নয়াদিল্লী আর আমাদের দেশের ঢাকা এয়ারপোর্ট এ কতনা অসহনীয় দৌড়যাপ।
অবশেষেঃঅনেক দুঃখ কষ্ট আর সাদা চামড়ার ভদ্রলোকদের সব শর্ত পূরনে।আপনার হাতে এসে ধরা দিতে পারে সোনার হরিণ।
যাওয়ার পরের চিত্র, বিচিত্র কঠিন। আপনাকে এসাইলাম মারতে হবে। মানবাধিকার এর ঠিকাদার হিসাবে আপনার কপাল খুলে যেতে ও পারে।যদি কপাল সুপ্রসন্ন না হয় তাহলেই আসল সমস্যা।পলিটিকাল এসাইলাম করে উনাদের দেশে থাকতে হবে।আর নতুবা আপনি রিফুউজি বলে থাকার জন্য আদালতে অনুরোধ করবেন।
রিফিউজি হিসাবে ওখানে থাকেন আমাদের বেশিরভাগ বাংলাদেশি।কপাল খারাপ হলে আপনি যদি তাদের আইনি লড়াইয়ে হেরে যান তাহলে দেশ ছাড়ার নোটিশ ও পেতে পারেন।অন্যথায় বিদেশীদের ট্যাক্স দিয়ে দীর্ঘ গ্লানি পাড়ি দিতে পারলে হয়তো পেতে পারেন উনাদের কাছ থেকে তাদের দেশে থাকার সুপারিশপত্র।
এভাবেই চলে প্রবাস জীবনের কাহিনি আর পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট।এভাবেই শেষ হয়ে যায় হাজারো মানুষের প্রবাস জীবনের স্বপ্ন আর স্বাদ। বাংলাদেশের মত দেশের বেশিরভাগ মেধাবীরা পাড়ি দেয় ইউরোপ পাড়ায়| এতে করে দিন দিন মেধাহীন হয়ে উঠছে দেশ|। বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর হাজারো মেধাবী।এই দেশকে আমরা প্রতিষ্টিত এবং স্বতন্ত্রভাবে নিজেদের অবস্থান বহিঃর্বিশ্বে তুলে ধরতে চাইলে রোধ করতে হবে মেধা পাচার।
আমি এমন একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে মানুষ নিজের অর্থ উপার্জনের জন্য বিদেশের মাটিতে যাওয়া লাগবে না।আমি এমন একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে লেখাপড়ার জন্য বা চাকরি খোজার জন্য এদেশে ইউরোপ আমেরিকা থেকে মানুষ আসবে।
অবশেষঃ 
ভালো থাক আমার সোনার বাংলা। ভালো থাক এদেশের ষোল কোটি মানুষ। ভালো থাক বিশ্বের ১৫২ টি দেশে অবস্থানরত ৯৩ লাখ আমার দেশের ভাই ও বোনেরা।
লেখকের একান্ত মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.