নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী “মঙ্গল শোভাযাত্রা”-এর নাম পরিবর্তন করে “বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা” রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: আজহারুল ইসলাম শেখ এই ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান, প্রো-ভিসি ড.সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
গত ২৩ মার্চ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের কারণ হিসেবে “সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য উৎসবটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দদায়ক করে তোলা” উল্লেখ করা হয়েছে। আগের নামে ব্যবহৃত “মঙ্গল” শব্দটির ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে কিছু বিতর্ক ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নতুন নামটি যাতে সার্বজনীন আবহ তৈরি করে, সেদিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
চারুকলা অনুষদের ডিন ড. আজহারুল ইসলাম জানান, বাংলা ১৪৩২ সালের নববর্ষ উদযাপনে এবারও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, পাপেট ও ফেস্টুন তৈরিতে ব্যস্ত। ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন নামের মাধ্যমে আমরা সকলকে সম্পৃক্ত করতে চাই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এই শোভাযাত্রা ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছিল। নাম পরিবর্তন হলেও উৎসবের মূল উদ্দেশ্য—বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া—অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পহেলা বৈশাখের এই বর্ণিল শোভাযাত্রা এবারও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সাজবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
